ক্যাটাগরি পুঁজি বাজার

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপেন মার্কেট অপারেশনস (OMO) নির্দেশিকা

    দেশের মুদ্রা বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার তারল্য ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ‘Guidelines for Open Market Operations’ বা ওপেন মার্কেট অপারেশনস (OMO) নির্দেশিকা জারি করেছে। ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তারিখে ডিএমডি সার্কুলার নং-০২ এর মাধ্যমে এই নির্দেশিকাটি প্রকাশ করা হয় এবং এটি ২০২৬ সালের ০৩ মে তারিখ হতে কার্যকর হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেট ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট (DMD) এই নীতিমালের তদারকি ও পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত। এই ব্লগে আমরা এই নির্দেশিকার মূল দিকগুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব।

    ওপেন মার্কেট অপারেশনস এর মূল উদ্দেশ্য

    বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রণীত এই নির্দেশিকার মূল লক্ষ্য হলো ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোকে স্বল্পমেয়াদী তারল্য সহায়তা প্রদান করা এবং বাজার থেকে অতিরিক্ত তারল্য উত্তোলন প্রক্রিয়াকে স্পষ্ট করা। আধুনিক ও সমন্বিত কাঠামোর আওতায় এই কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সামগ্রিক মুদ্রানীতি বাস্তবায়নকে সহজতর ও সুসংহত করাই এর প্রধান উদ্দেশ্য। এটি মূলত বাজারে অর্থ সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ এবং সুদের হারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।

    গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞাসমূহ

    নির্দেশিকাটি সঠিকভাবে বোঝার জন্য কিছু মূল শব্দ বা সংজ্ঞার ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি:

    • ওপেন মার্কেট অপারেশন (OMO): এটি মুদ্রানীতি বাস্তবায়নের এমন একটি মাধ্যম যার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে অর্থের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। এর প্রধান সরঞ্জামগুলোর মধ্যে রয়েছে রেপো, স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি, স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি এবং বাংলাদেশ ব্যাংক বিল।
    • রিপারচেজ অ্যাগ্রিমেন্ট (Repo): এটি একটি স্বল্পমেয়াদী ব্যবস্থা যেখানে ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে তাদের কাছে থাকা ট্রেজারি বিল বা বন্ড বিক্রির মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করে এবং ভবিষ্যতে একটি নির্দিষ্ট তারিখে তা পুনরায় কেনার প্রতিশ্রুতি দেয়।
    • স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (SLF): ব্যাংকগুলোর যখন হঠাৎ অর্থের প্রয়োজন হয়, তখন তারা জামানতের বিপরীতে ওভারনাইট বা এক রাতের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে যে ঋণ নেয়, তাকে SLF বলা হয়।
    • স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (SDF): ব্যাংকগুলোর কাছে যদি অতিরিক্ত অলস টাকা থাকে, তবে তারা কোনো জামানত ছাড়াই নির্দিষ্ট সুদে বাংলাদেশ ব্যাংকে সেই টাকা জমা রাখতে পারে।
    • বাংলাদেশ ব্যাংক বিল (BB Bill): বাজার থেকে অতিরিক্ত তারল্য দীর্ঘমেয়াদে তুলে নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক এই বিল ইস্যু করে। এটি মূলত একটি স্বল্পমেয়াদী ঋণপত্র।
    • ইসলামিক ব্যাংকস লিকুইডিটি ফ্যাসিলিটি (IBLF): এটি শরীয়াহ ভিত্তিক ব্যাংকগুলোর জন্য তৈরি একটি ব্যবস্থা যা মুদারাবাহ চুক্তির ভিত্তিতে পরিচালিত হয়।

    প্রথাগত ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানির জন্য OMO সরঞ্জামসমূহ

    বাংলাদেশ ব্যাংক প্রচলিত ব্যাংকগুলোর জন্য মূলত চারটি প্রধান হাতিয়ার ব্যবহার করে তারল্য নিয়ন্ত্রণ করে।

    ১. রিপারচেজ অ্যাগ্রিমেন্ট (Repo)

    রেপো হলো বাজারে অর্থ সরবরাহের অন্যতম প্রধান মাধ্যম।

    • মেয়াদ: এটি সাধারণত ১ দিন (ওভারনাইট) এবং ৭ দিন মেয়াদী হয়।
    • সময়সূচী: ৭ দিনের রেপো অপারেশনটি নিয়মিতভাবে প্রতি মঙ্গলবার পরিচালিত হয়। তবে সিআরআর (CRR) সংরক্ষণের শেষ দিনে যদি কোনো নিয়মিত রেপো না থাকে, তবে ব্যাংকগুলোর সুবিধার্থে ১ দিনের রেপো আয়োজন করা হতে পারে।
    • সুদের হার: মুদ্রানীতি কমিটি (MPC) কর্তৃক সময়ে সময়ে নির্ধারিত ‘পলিসি রেট’ অনুযায়ী রেপোর সুদের হার নির্ধারিত হয়।

    ২. স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (SLF)

    এটি ব্যাংকগুলোর জন্য একটি আপদকালীন ব্যবস্থা।

    • মেয়াদ: এটি শুধুমাত্র ১ দিন বা ওভারনাইট মেয়াদী হয়।
    • সময়সূচী: প্রতিটি কার্যদিবসেই ব্যাংকগুলো এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারে।
    • সুদের হার: এটি পলিসি রেটের একটি নির্দিষ্ট করিডোর অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।

    ৩. স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (SDF)

    যখন বাজারে টাকার প্রবাহ অনেক বেড়ে যায়, তখন মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এটি ব্যবহার করা হয়। এটিও ওভারনাইট মেয়াদী এবং প্রতিটি কার্যদিবসে ব্যাংকগুলো তাদের উদ্বৃত্ত অর্থ এখানে জমা রাখতে পারে। এতে ব্যাংকগুলোকে কোনো সিকিউরিটিজ বা জামানত দেওয়া হয় না।

    ৪. বাংলাদেশ ব্যাংক বিল (BB Bill)

    বাজারের কাঠামোগত তারল্য শোষণের জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকর।

    • মেয়াদ: সাধারণ মুদ্রা অপারেশনের জন্য ৭ দিন এবং কাঠামোগত অপারেশনের জন্য ১৪, ৩০, ৯০ ও ১৮০ দিন মেয়াদী বিল ইস্যু করা হয়।
    • নিলাম পদ্ধতি: এই বিলগুলো নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয় এবং এর ডিসকাউন্ট রেট পলিসি রেটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়।

    শরীয়াহ ভিত্তিক ব্যাংকগুলোর জন্য তারল্য সুবিধা (IBLF)

    ইসলামিক ব্যাংকগুলোর জন্য সুদমুক্ত এবং শরীয়াহ সম্মত তারল্য ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে ‘ইসলামী ব্যাংকস লিকুইডিটি ফ্যাসিলিটি (আইবিএলএফ)’ চালু করা হয়েছে। এটি মুদারাবাহ চুক্তির ভিত্তিতে পরিচালিত হয়, যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংক বিনিয়োগকারী বা ‘রাব্বুল মাল’ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকটি বিনিয়োগ ব্যবস্থাপক বা ‘মুদারিব’ হিসেবে কাজ করে।

    • মেয়াদ ও মুনাফা: এটি সাধারণত ৭ দিন মেয়াদী হয়। এর মুনাফার হার সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের এক মাস মেয়াদী মুদারাবাহ টার্ম ডিপোজিট রিসিপ্ট (MTDR) এর হারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ করা হয়।
    • মুনাফা সমন্বয়: বছর শেষে ব্যাংকটির প্রকৃত অর্জিত মুনাফার ভিত্তিতে এই সাময়িকভাবে নির্ধারিত মুনাফা হার চূড়ান্তভাবে সমন্বয় করা হয়।

    রেপো এবং আইবিএলএফ এর মধ্যে পার্থক্য কী?


    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশিকা অনুযায়ী, রেপো (Repo) এবং আইবিএলএফ (IBLF) উভয়ই বাজারে তারল্য সরবরাহের সরঞ্জাম হলেও এদের মধ্যে মৌলিক কিছু পার্থক্য রয়েছে। নিচে এদের প্রধান পার্থক্যগুলো তুলে ধরা হলো:

    ১. ব্যাংকিং ব্যবস্থার ধরন:

    • রেপো: এটি মূলত কনভেনশনাল বা প্রথাগত ব্যাংক এবং ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর তারল্য ব্যবস্থাপনার জন্য ব্যবহৃত হয় ।
    • আইবিএলএফ: এটি শরীয়াহ ভিত্তিক ব্যাংক এবং ফাইন্যান্স কোম্পানি (অথবা প্রথাগত ব্যাংকের ইসলামিক উইন্ডো) গুলোর জন্য তৈরি একটি শরীয়াহ সম্মত ব্যবস্থা ।

    ২. চুক্তির ভিত্তি:

    • রেপো: এটি একটি বিক্রয় এবং পুনরায় কেনার (Sale and Repurchase) চুক্তি, যা অর্থনৈতিকভাবে একটি জামানতযুক্ত অর্থায়ন হিসেবে বিবেচিত হয় ।
    • আইবিএলএফ: এটি মুদারাবাহ (Mudarabah) চুক্তির ভিত্তিতে পরিচালিত হয়, যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংক বিনিয়োগকারী (রাব্বুল মাল) এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বিনিয়োগ ব্যবস্থাপক (মুদারিব) হিসেবে কাজ করে ।

    ৩. রিটার্ন বা আয়ের প্রকৃতি:

    • রেপো: এক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংককে সুদ (Interest) প্রদান করে, যা মুদ্রানীতি কমিটি (MPC) কর্তৃক নির্ধারিত পলিসি রেট অনুযায়ী হয় ।
    • আইবিএলএফ: এতে সুদের পরিবর্তে মুনাফা (Profit) বণ্টন করা হয়। এই মুনাফা একটি পূর্ব-নির্ধারিত মুনাফা বণ্টন অনুপাত (PSR) এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মুদারাবাহ টার্ম ডিপোজিট রিসিপ্ট (MTDR) হারের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয় ।

    ৪. জামানত (Collateral):

    • রেপো: এর বিপরীতে ট্রেজারি বিল, ট্রেজারি বন্ড এবং বাংলাদেশ ব্যাংক বিল জামানত হিসেবে রাখা হয়।
    • আইবিএলএফ: এর বিপরীতে জামানত হিসেবে বাংলাদেশ গভর্মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট সুকুক (BGIS) রাখা হয় ।

    ৫. মেয়াদ (Tenor):

    • রেপো: এর মেয়াদ সাধারণত ১ দিন (ওভারনাইট) এবং ৭ দিন হয়ে থাকে ।
    • আইবিএলএফ: এর মেয়াদ সাধারণত ৭ দিন হয় ।

    ৬. জরিমানার ব্যবহার:

    • রেপো: কোনো ব্যাংক খেলাপ করলে যে জরিমানা আদায় করা হয়, তা বাংলাদেশ ব্যাংকের আয় হিসেবে গণ্য হতে পারে।
    • আইবিএলএফ: শরীয়াহ নীতি অনুযায়ী, খেলাপী ব্যাংকের কাছ থেকে আদায়কৃত জরিমানার অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের আয় হিসেবে যোগ হয় না; বরং তা একটি চ্যারিটি ফান্ডে (বাংলাদেশ ব্যাংক ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি ফান্ড) স্থানান্তর করা হয় ।

    পরিচালন ও সেটেলমেন্ট পদ্ধতি

    OMO কার্যক্রম সাধারণত ইলেকট্রনিক সিস্টেম বা ফিন্যান্সিয়াল মার্কেট ইনফ্রাস্ট্রাকচার (FMI) এর মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এর পুরো প্রক্রিয়াটি দুটি ধাপে সম্পন্ন হয়:

    প্রথম লেগ সেটেলমেন্ট (First Leg Settlement): লেনদেনটি সম্পন্ন হওয়ার পর প্রাথমিক পর্যায়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কারেন্ট অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা দেয় (রেপো বা SLF এর ক্ষেত্রে)। বিনিময়ে ব্যাংকের সিকিউরিটিজগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুকূলে জামানত হিসেবে লিয়েন করা হয়। এই সেটেলমেন্ট ভ্যালু নির্ধারণের সময় সিকিউরিটিজের বাজার মূল্য থেকে একটি নির্দিষ্ট অংশ ‘হেয়ারকাট’ হিসেবে বাদ দেওয়া হয়।

    দ্বিতীয় লেগ সেটেলমেন্ট (Second Leg Settlement): এটি হলো লেনদেনের মেয়াদ শেষ হওয়ার দিন। এই দিনে ব্যাংকটি সুদাসলসহ অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংককে ফেরত দেয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের জামানতকৃত সিকিউরিটিজগুলো মুক্ত করে দেয়।


    জামানত ও হেয়ারকাট (Haircut) নীতি

    OMO কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য ব্যাংকগুলোকে অবশ্যই যোগ্য সিকিউরিটিজ জামানত হিসেবে প্রদান করতে হয়।

    • যোগ্য সিকিউরিটিজ: ট্রেজারি বিল, ট্রেজারি বন্ড এবং বাংলাদেশ ব্যাংক বিলকে যোগ্য জামানত হিসেবে ধরা হয়। ইসলামিক ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ গভর্মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট সুকুক (BGIS) গ্রহণযোগ্য।
    • হেয়ারকাট: সিকিউরিটিজের বাজার ঝুঁকি মোকাবিলায় এর মূল্যের ওপর ৫% হেয়ারকাট প্রয়োগ করা হয়। অর্থাৎ, ১০০ টাকার সিকিউরিটিজের বিপরীতে ব্যাংক সর্বোচ্চ ৯৫ টাকা ঋণ পেতে পারে।

    চুক্তি লঙ্ঘন বা ডিফল্ট হওয়ার পরিণাম

    যদি কোনো ব্যাংক নির্দিষ্ট মেয়াদে অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হয়, তবে নির্দেশিকা অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক নিম্নলিখিত কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে:

    ১. বাংলাদেশ ব্যাংক তাৎক্ষণিকভাবে জামানতকৃত সিকিউরিটিজ বাজেয়াপ্ত ও বিক্রি করে নিজের পাওনা আদায় করতে পারে।

    ২. পাওনা আদায়ে কোনো ঘাটতি থাকলে তা ব্যাংকের কারেন্ট অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে নেওয়া হয়।

    ৩. খেলাপি ব্যাংককে পুনরায় কোনো সুবিধা দেওয়ার আগে সকল বকেয়া পরিশোধ করতে হয়।

    ৪. জরিমানার ক্ষেত্রে রেপো বা SLF হারের সমপরিমাণ অতিরিক্ত চার্জ আরোপ করা হয়। ইসলামিক ব্যাংকের ক্ষেত্রে জরিমানার টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব আয় হিসেবে গণ্য না হয়ে একটি চ্যারিটি ফান্ডে জমা দেওয়া হয়।


    হিসাবরক্ষণ বা অ্যাকাউন্টিং পদ্ধতি

    নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, রেপো লেনদেনকে সিকিউরিটিজ কেনাবেচা হিসেবে না দেখে ‘জামানতযুক্ত ঋণ’ বা Collateralized Borrowing হিসেবে গণ্য করা হয়।

    • সিকিউরিটিজগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ব্যালেন্স শিটেই থাকবে তবে সেগুলোকে ‘দায়বদ্ধ’ বা Encumbered হিসেবে দেখাতে হবে।
    • মেয়াদ চলাকালীন এই সিকিউরিটিজগুলো এসএলআর (SLR) সংরক্ষণের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবে না।
    • সিকিউরিটিজের বিপরীতে প্রাপ্ত কুপন বা মুনাফা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকই পাবে।

    সাধারণ শর্তাবলী ও সময়সূচী

    • সময়: রেপো এবং IBLF এর আবেদনের জন্য সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত সময় নির্ধারিত। ফলাফল প্রকাশ করা হয় বিকেল ৩:৩০ মিনিটে।
    • সেটেলমেন্ট: সকল লেনদেন T+0 ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়, অর্থাৎ আবেদনের দিনেই টাকা পাওয়া যায়।
    • ছুটির দিন: যদি মেয়াদ শেষের দিন সরকারি ছুটি থাকে, তবে পরবর্তী কার্যদিবসে লেনদেন সম্পন্ন হবে এবং ঐ অতিরিক্ত দিনের সুদ প্রদান করতে হবে।
    • ম্যানুয়াল আবেদন: যদি ইলেকট্রনিক সিস্টেমে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়, তবে বিশেষ ফরমে ম্যানুয়াল আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

    ডেডলাইন:

    আগামী ০৩ মে, ২০২৬ থেকে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হবে

    উপসংহার

    বাংলাদেশ ব্যাংকের এই বিস্তৃত OMO নির্দেশিকা দেশের ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও শৃঙখলা নিশ্চিত করার একটি বড় পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে যেমন ব্যাংকগুলো তাদের সাময়িক অর্থের সংকট মেটাতে পারে, তেমনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকও বাজারের তারল্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে মুদ্রাস্ফীতি ও সুদের হারের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সক্ষম হয়। প্রথাগত এবং শরীয়াহ ভিত্তিক উভয় পদ্ধতির জন্য সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন থাকায় দেশের সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতা আরও মজবুত হবে বলে আশা করা যায়।

  • বিএসইসি পাবলিক অফার অফ ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ রুলস, ২০২৫

    বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সূচিত হয়েছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে “বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক অফার অফ ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ) রুলস, ২০২৫” জারি করেছে । এই নতুন বিধিমালাটি ২০১৫ সালের পাবলিক ইস্যু রুলসকে রহিত করে প্রণয়ন করা হয়েছে এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর বলে গণ্য হবে । আজকের ব্লগে আমরা এই বিধিমালার প্রতিটি ধাপ, যোগ্যতা এবং পদ্ধতিগুলো কালানুক্রমিকভাবে আলোচনা করব, যা বিনিয়োগকারী এবং ইস্যুয়ার কোম্পানি উভয়ের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ১. প্রাথমিক ধারণা ও সংজ্ঞা

    নতুন এই বিধিমালায় পাবলিক অফারের সংজ্ঞা এবং পদ্ধতি সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। পাবলিক অফার বা পাবলিক ইস্যু বলতে ইনিশিয়াল পাবলিক অফার (IPO) অথবা রিপিট পাবলিক অফার (RPO)-এর মাধ্যমে ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ ইস্যু করাকে বোঝানো হয়েছে । এখানে দুটি মূল পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে:

    ১. ফিক্সড প্রাইস মেথড: যেখানে ইস্যুয়ার এবং ইস্যু ম্যানেজার মিলে শেয়ারের দাম নির্ধারণ করেন ।

    ২. বুক বিল্ডিং মেথড: যেখানে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের (Eligible Investors) চাহিদার ভিত্তিতে বিডিংয়ের মাধ্যমে শেয়ারের কাট-অফ প্রাইস নির্ধারিত হয় ।

    এছাড়াও, নতুন বিধিতে “গ্রিন ফিল্ড কোম্পানি” বা নতুন প্রকল্পগুলোর জন্য বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে, যা আগে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করেনি ।

    ২. পাবলিক অফারের আবেদনের যোগ্যতা (সাধারণ শর্তাবলী)

    কোনো কোম্পানি যদি পুঁজিবাজারে আসতে চায়, তবে তাকে রুল ৪(১) অনুযায়ী কিছু মৌলিক শর্ত পূরণ করতে হবে:

    • কোম্পানিটিকে অবশ্যই পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হতে হবে [।
    • আইপিও আবেদনের সময় কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন (Pre-IPO paid-up capital) অন্তত ৩০ কোটি টাকা হতে হবে এবং পোস্ট-আইপিও মূলধন অন্তত ৫০ কোটি টাকা হতে হবে। কোম্পানিকে তার পোস্ট-আইপিও মূলধনের অন্তত ১০% শেয়ার অফার করতে হবে ।
    • স্পন্সর এবং পরিচালকদের সব সময় সম্মিলিতভাবে অন্তত ৩০% শেয়ার ধারণ করতে হবে ।
    • কোম্পানিটির বিগত অর্থবছরে মুনাফা থাকতে হবে এবং কোনো পুঞ্জীভূত লোকসান থাকা যাবে না (গ্রিন ফিল্ড ও রেগুলেটেড কোম্পানি বাদে) ।
    • ইস্যুয়ার বা এর ৫% বা তার বেশি শেয়ারধারী কোনো পরিচালক ঋণ খেলাপি হতে পারবেন না ।
    • ইস্যুটিকে অন্তত ৩৫% আন্ডাররাইট বা অবলিখন করতে হবে [৩০]।
    • আবেদনের পূর্ববর্তী ২ বছরের মধ্যে বোনাস শেয়ার ছাড়া অন্য কোনোভাবে মূলধন বৃদ্ধি করা যাবে না (তবে কমিশনের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে কিছু শিথিলতা আছে) ।

    ৩. পদ্ধতিভেদে অতিরিক্ত যোগ্যতা ও শর্তাবলী

    সাধারণ শর্তের পাশাপাশি কোম্পানিটি কোন পদ্ধতিতে বাজারে আসবে, তার ওপর ভিত্তি করে অতিরিক্ত যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    ক) ফিক্সড প্রাইস মেথড (গ্রিন ফিল্ড ব্যতীত): এই পদ্ধতিতে শেয়ার প্রিমিয়ামে বা অভিহিত মূল্যে ছাড়া যাবে। তবে শর্ত হলো:

    • পোস্ট-আইপিও মূলধন ১২৫ কোটি টাকার বেশি হতে পারবে না (রেগুলেটেড কোম্পানি বাদে) ।
    • যদি প্রিমিয়ামে শেয়ার ছাড়তে চায়, তবে কোম্পানিকে অন্তত ৩ বছর বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালাতে হবে, বিগত ২ বছর মুনাফায় থাকতে হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে অন্তত ‘A’ ক্যাটাগরির ক্রেডিট রেটিং থাকতে হবে ।

    খ) ফিক্সড প্রাইস মেথড (গ্রিন ফিল্ড কোম্পানি): নতুন বা গ্রিন ফিল্ড কোম্পানিগুলো শুধুমাত্র অভিহিত মূল্যে (Par value) বা ডিসকাউন্টে শেয়ার ছাড়তে পারবে। এদের ক্ষেত্রে:

    • পোস্ট-আইপিও মূলধন ১২৫ কোটি টাকার বেশি হতে পারে ।
    • স্পন্সর ও পরিচালকদের অবদান পোস্ট-আইপিও মূলধনের অন্তত ৭৫% হতে হবে এবং আইপিও-পরবর্তী ২ বছর মুনাফা না হওয়া পর্যন্ত এই শেয়ার বিক্রি করা যাবে না (Lock-in) ।
    • প্রস্পেক্টাসের কভার পেজে বড় অক্ষরে ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্কবার্তা দিতে হবে যে, এটি একটি গ্রিন ফিল্ড কোম্পানি এবং এর ঝুঁকি বিদ্যমান কোম্পানিগুলোর চেয়ে বেশি।

    গ) বুক বিল্ডিং মেথড: বড় মূলধনী কোম্পানিগুলোর জন্য এই পদ্ধতি প্রযোজ্য। শর্তসমূহ:

    • শেয়ার শুধুমাত্র কাট-অফ প্রাইসে অফার করা যাবে ।
    • কমপক্ষে ৩ বছর বাণিজ্যিক কার্যক্রম থাকতে হবে এবং বিগত ২ বছর মুনাফা ও পজিটিভ ক্যাশ ফ্লো থাকতে হবে ।
    • দীর্ঘমেয়াদে অন্তত ‘A’ ক্যাটাগরির ক্রেডিট রেটিং থাকতে হবে ।
    • ৫০০ কোটি টাকার বেশি মূলধনী কোম্পানি হলে তারা ১০%-এর কম (কিন্তু ৫%-এর নিচে নয়) শেয়ার অফার করতে পারবে ।

    ৪. অফারের আবেদন ও রোড শো প্রক্রিয়া

    বুক বিল্ডিং পদ্ধতির ক্ষেত্রে কোম্পানিকে প্রথমে রোড শো (Road Show) আয়োজন করতে হবে।

    • রোড শো: ইস্যুয়ার এবং ইস্যু ম্যানেজারকে রোড শো-এর অন্তত ১০ কার্যদিবস আগে বাংলা ও ইংরেজি দৈনিকে বিজ্ঞাপন দিয়ে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের (EIs) আমন্ত্রণ জানাতে হবে । রোড শো-তে রেড-হেরিং প্রস্পেক্টাস এবং ভ্যালুয়েশন মেথড (Annexure-C অনুযায়ী) উপস্থাপন করতে হবে ।
    • ইন্ডিকেটিভ প্রাইস: রোড শো শেষে ইআই-দের মতামতের ভিত্তিতে ইস্যু ম্যানেজার ‘ইন্ডিকেটিভ প্রাইস’ বা নির্দেশক মূল্য নির্ধারণ করবেন। এই মূল্যটি অন্তত ৪০ জন ইআই-এর ভ্যালুয়েশনের ভিত্তিতে হতে হবে এবং ৪টি ভিন্ন ভ্যালুয়েশন মেথড দ্বারা সমর্থিত হতে হবে ।

    এরপর কোম্পানি বিএসইসি এবং স্টক এক্সচেঞ্জে আবেদন জমা দেবে। স্টক এক্সচেঞ্জ আবেদন পাওয়ার ২০ দিনের মধ্যে কোম্পানির ফ্যাক্টরি বা অফিস পরিদর্শন করবে এবং ৩০ দিনের মধ্যে তাদের মতামত কমিশনে জানাবে ।

    ৫. বিডিং এবং কাট-অফ প্রাইস নির্ধারণ (বুক বিল্ডিং)

    কমিশনের অনুমোদনের পর বুক বিল্ডিং পদ্ধতির মূল ধাপ হলো বিডিং।

    • বিডিং ৭২ ঘণ্টা ধরে চলবে এবং এটি স্টক এক্সচেঞ্জের ইলেকট্রনিক সাবস্ক্রিপশন সিস্টেম (ESS) এর মাধ্যমে হবে ।
    • বিডাররা ইন্ডিকেটিভ প্রাইসের ২৫% কম বা বেশির মধ্যে (Price Band) বিড করতে পারবেন ।
    • কোনো বিডার মোট ইআই কোটার ১%-এর বেশি শেয়ারের জন্য বিড করতে পারবেন না ।
    • কার্টেল নিষিদ্ধ: বিডিং প্রক্রিয়ায় কোনো প্রকার কার্টেল বা যোগসাজশ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। যদি বিডিংয়ের সময় অস্বাভাবিক মূল্য বা প্যাটার্ন লক্ষ্য করা যায়, তবে কমিশন বিডিং বাতিলসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে ৫ বছরের জন্য নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে ।
    • বিডিং শেষে কাট-অফ প্রাইস নির্ধারিত হবে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্যও এই কাট-অফ প্রাইসে শেয়ার অফার করা হবে ।

    ৬. সাবস্ক্রিপশন ও শেয়ার বণ্টন (Distribution)

    আইপিও-তে বিভিন্ন ক্যাটাগরির বিনিয়োগকারীদের জন্য কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    ফিক্সড প্রাইস মেথডে বণ্টন [১০৩]:

    • যোগ্য বিনিয়োগকারী (EIs): ১০%
    • মিউচুয়াল ফান্ড: ১০%
    • ইস্যুবারের স্থায়ী কর্মচারী: ৫%
    • উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তি (HNI): ৫%
    • প্রবাসী বাংলাদেশি (NRB): ১০%
    • সাধারণ বিনিয়োগকারী (General Investors): ৬০%

    বুক বিল্ডিং মেথডে বণ্টন [১০৪]:

    • যোগ্য বিনিয়োগকারী (EIs): ৪০%
    • মিউচুয়াল ফান্ড: ১০%
    • ইস্যুবারের স্থায়ী কর্মচারী: ৩%
    • উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তি (HNI): ৫%
    • প্রবাসী বাংলাদেশি (NRB): ৭%
    • সাধারণ বিনিয়োগকারী (General Investors): ৩৫%

    সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সাবস্ক্রিপশন প্রস্পেক্টাসের সংক্ষিপ্ত সংস্করণ প্রকাশের ১০ কার্যদিবস পর শুরু হবে এবং ১৫ কার্যদিবস পর্যন্ত খোলা থাকবে। অতিরিক্ত আবেদন জমা পড়লে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে লটারির মাধ্যমে এবং অন্যদের ক্ষেত্রে প্রো-রাটা (Pro-rata) ভিত্তিতে শেয়ার বরাদ্দ দেওয়া হবে ।

    ৭. লক-ইন পিরিয়ড (Lock-in)

    শেয়ার বাজারে লেনদেন শুরুর দিন থেকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য শেয়ার বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা বা লক-ইন প্রযোজ্য হবে ।

    • স্পন্সর ও পরিচালক: ৩ বছর ।
    • প্লেসমেন্ট শেয়ারহোল্ডার (৩ বছরের কম সময় ধরে ধারণকৃত): ১ বছর ।
    • অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড ও বিদেশি বিনিয়োগকারী: ১ বছর ।
    • বুক বিল্ডিংয়ে ইআই-দের শেয়ার: এদের শেয়ার ধাপে ধাপে মুক্ত হবে—৫০% শেয়ার ৯০ দিনে, ২৫% শেয়ার ১২০ দিনে এবং বাকি ২৫% শেয়ার ১৮০ দিনে বিক্রি করা যাবে ।
    • স্ট্র্যাটেজিক ইনভেস্টর: ২ বছর ।

    ৮. ফি এবং খরচ

    পাবলিক অফারের জন্য ইস্যুয়ারকে বিভিন্ন ফি প্রদান করতে হবে:

    • ইস্যু ম্যানেজমেন্ট ফি: ফিক্সড প্রাইসে সর্বোচ্চ ১% বা ২৫ লাখ টাকা (যেটি বেশি) এবং বুক বিল্ডিংয়ে ১% বা ৩০ লাখ টাকা ।
    • আন্ডাররাইটিং ফি: অফারকৃত অংশের ৩৫%-এর ওপর সর্বোচ্চ ০.৫% ।
    • কমিশন ফি: আবেদনের জন্য ৫০,০০০ টাকা (অফেরৎযোগ্য) এবং কনসেন্ট ফি হিসেবে পাবলিক অফার অ্যামাউন্টের ০.৩০% ।

    ৯. প্রসপেক্টাস ও তথ্যের স্বচ্ছতা

    নতুন রুলে প্রসপেক্টাসে তথ্যের স্বচ্ছতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। অ্যানেক্সার-এইচ (Annexure-H) অনুযায়ী প্রসপেক্টাসে কোম্পানির আর্থিক অবস্থা, ঝুঁকির কারণ (Risk Factors), এবং ভ্যালুয়েশন রিপোর্ট বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করতে হবে । মিথ্যা তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে কমিশন সিকিউরিটিজ অধ্যাদেশ, ১৯৬৯ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে । বিশেষত, কোম্পানির আর্থিক বিবরণী আন্তর্জাতিক মানদণ্ড (IFRS/IAS) অনুযায়ী প্রস্তুত এবং নিরীক্ষিত হতে হবে ।

    ১০. রিপিট পাবলিক অফার (RPO)

    কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানি যদি পুনরায় মূলধন সংগ্রহ করতে চায়, তবে তাদের রিপিট পাবলিক অফার বা RPO-এর মাধ্যমে আসতে হবে। এর জন্য কিছু বিশেষ শর্ত রয়েছে, যেমন—পূর্ববর্তী ফান্ডের ৯০% ব্যবহার সম্পন্ন হতে হবে এবং কোম্পানিকে ইনভেস্টমেন্ট গ্রেড রেটিংধারী হতে হবে ।

    উপসংহার

    “বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক অফার অফ ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ) রুলস, ২০২৫” একটি যুগোপযোগী এবং বিস্তারিত নির্দেশিকা। এতে গ্রিন ফিল্ড কোম্পানিগুলোর জন্য যেমন সুযোগ রাখা হয়েছে, তেমনি বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে কার্টেল রোধে কঠোর ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় লক-ইন পিরিয়ড এবং তথ্যের স্বচ্ছতার বিষয়গুলো অত্যন্ত সুচিন্তিত। আশা করা যায়, এই নতুন বিধিমালার সঠিক প্রয়োগ বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে আরও গতিশীল এবং স্বচ্ছ করে তুলবে।


    দ্রষ্টব্য: এই ব্লগের সকল তথ্য বিএসইসি কর্তৃক প্রকাশিত গেজেট থেকে সংগৃহীত। বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে মূল গেজেটটি বিস্তারিত পড়ে নেওয়া এবং নিজস্ব বিচার-বুদ্ধি প্রয়োগ করা বাঞ্ছনীয়।

  • বিএসইসি মিউচ্যুয়াল ফান্ড বিধিমালা, ২০২৫

    বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) মিউচ্যুয়াল ফান্ড ব্যবস্থাপনাকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং আধুনিক করার লক্ষ্যে “বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মিউচ্যুয়াল ফান্ড) বিধিমালা, ২০২৫” জারি করেছে। ১২ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশিত এই বিধিমালাটি ২০০১ সালের বিধিমালার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। এই ব্লগ পোস্টে আমরা বিধিমালার তথ্যসমূহ বিস্তারিত আলোচনা করব।

    প্রারম্ভিক ও সংজ্ঞাসমূহ

    বিধিমালার শুরুতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষার সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে যা ফান্ড পরিচালনার জন্য অপরিহার্য।

    • উদ্যোক্তা (Sponsor): যিনি বা যে প্রতিষ্ঠান মিউচ্যুয়াল ফান্ড গঠন করেন। এর মধ্যে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা কোম্পানি বা কমিশনের অনুমোদনপ্রাপ্ত অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
    • সম্পদ ব্যবস্থাপক (Asset Manager): যিনি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং বিনিয়োগের দায়িত্বে থাকেন।
    • ট্রাস্টি (Trustee): যিনি ইউনিট হোল্ডারদের স্বার্থ সংরক্ষণে ফান্ডের সম্পদের জিম্মাদার হিসেবে কাজ করেন।
    • হেফাজতকারী (Custodian): যিনি ফান্ডের সিকিউরিটিজ বা সম্পদ নিরাপদে সংরক্ষণ করেন।
    • স্কিম: এটি হলো ফান্ডের অধীনে গঠিত নির্দিষ্ট বিনিয়োগ পরিকল্পনা, যা বে-মেয়াদি (Open-end) বা মেয়াদি (Closed-end) হতে পারে,।

    মিউচ্যুয়াল ফান্ড নিবন্ধন প্রক্রিয়া

    কোনো মিউচ্যুয়াল ফান্ড গঠন করতে হলে কমিশনের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক।

    • নিবন্ধন ফি: ফান্ড নিবন্ধনের জন্য আবেদন ফি ১ লক্ষ টাকা (অফেরৎযোগ্য) এবং নিবন্ধন ফি হিসেবে ফান্ডের আকারের ০.১০% (তবে সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা) জমা দিতে হবে,।
    • মেয়াদ: নিবন্ধনের মেয়াদ সনদ ইস্যু করার তারিখ হতে ৫ বছর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
    • বাতিল হওয়ার কারণ: ট্রাস্টি, সম্পদ ব্যবস্থাপক বা কাস্টোডিয়ান যদি যোগ্য না হন বা বিধিমালার শর্ত পূরণ না করেন, তবে ফান্ড নিবন্ধন বাতিল হতে পারে।

    ট্রাস্টি সম্পর্কিত বিধান

    ফান্ডের সুরক্ষায় ট্রাস্টির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বিধিমালার তৃতীয় অধ্যায়ে ট্রাস্টি সম্পর্কে বিস্তারিত বলা হয়েছে।

    • যোগ্যতা ও মূলধন: ট্রাস্টি হিসেবে নিবন্ধিত হতে হলে কোনো পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থার ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন ১০ কোটি টাকা হতে হবে।
    • জনবল: ট্রাস্টির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কমপক্ষে ৫ বছরের এবং কমপ্লায়েন্স অফিসারের ৩ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে,।
    • দায়িত্ব: ট্রাস্টি ফান্ডের সম্পদের আইনি মালিক হিসেবে কাজ করবেন এবং ইউনিট হোল্ডারদের পক্ষে বিশ্বস্ত জিম্মাদার (Fiduciary) হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ট্রাস্টি বছরে অন্তত একটি প্রতিবেদন দাখিল করবেন যেখানে ফান্ডের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত থাকবে।

    সম্পদ ব্যবস্থাপক (Asset Manager)

    চতুর্থ অধ্যায়ে সম্পদ ব্যবস্থাপকের যোগ্যতা ও দায়িত্ব বর্ণনা করা হয়েছে।

    • যোগ্যতা: সম্পদ ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ন্যূনতম ১০ কোটি টাকা হতে হবে। তাদের পরিচালনা পর্ষদে অন্তত একজন স্বতন্ত্র পরিচালক থাকতে হবে।
    • বিনিয়োগ কমিটি: সম্পদ ব্যবস্থাপককে একটি বিনিয়োগ কমিটি গঠন করতে হবে, যার সদস্যদের অন্তত ৫ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
    • নিষিদ্ধ কার্যক্রম: সম্পদ ব্যবস্থাপক নিজের বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের স্বার্থে ফান্ডের সম্পদ ব্যবহার করতে পারবেন না এবং কোনো গ্যারান্টি প্রদান করতে পারবেন না।

    হেফাজতকারী (Custodian)

    পঞ্চম অধ্যায়ে কাস্টোডিয়ানের বিধানাবলী রয়েছে।

    • যোগ্যতা: কাস্টোডিয়ান হিসেবে নিবন্ধনের জন্য ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন ২০ কোটি টাকা হতে হবে।
    • দায়িত্ব: কাস্টোডিয়ান ফান্ডের সকল সিকিউরিটিজ, নগদ অর্থ এবং স্বর্ণ বা অন্যান্য সম্পদ নিরাপদে সংরক্ষণ করবেন। সকল ডিমেটেরিয়ালাইজড (ইলেকট্রনিক) শেয়ার সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বা ডিপি-র মাধ্যমে সংরক্ষণ করতে হবে।

    স্কিম গঠন ও পরিচালনা

    মিউচ্যুয়াল ফান্ডের অধীনে বিভিন্ন স্কিম বা বিনিয়োগ পরিকল্পনা কীভাবে গঠিত হবে, তা ষষ্ঠ অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে।

    • বে-মেয়াদি ফান্ড (Open-end Fund): বে-মেয়াদি ফান্ডের প্রাথমিক আকার ৫০ কোটি টাকার কম হতে পারবে না। এর মধ্যে উদ্যোক্তাকে কমপক্ষে ১০% মূলধন (যা ৫০ কোটি টাকার ফান্ডের ক্ষেত্রে ৫ কোটি টাকা) সরবরাহ করতে হবে।
    • মেয়াদি ফান্ড (Closed-end Fund): নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো মেয়াদি বা ক্লোজড-এন্ড ফান্ড ১০ বছরের বেশি মেয়াদের জন্য গঠন করা যাবে না।
    • লক-ইন পিরিয়ড: উদ্যোক্তার অংশের মূলধন স্কিম চালুর তারিখ থেকে ১ বছর পর্যন্ত লক-ইন থাকবে (হস্তান্তর করা যাবে না)।

    বিনিয়োগ নির্দেশিকা ও সীমাবদ্ধতা

    বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি কমানোর জন্য সপ্তম অধ্যায়ে বিনিয়োগের সুনির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    • বিনিয়োগের ক্ষেত্র: তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজ, আইপিও, বা কমিশনের অনুমোদিত অন্যান্য ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করা যাবে।
    • বিনিয়োগ সীমা (Exposure Limits):
      • কোনো একক কোম্পানি বা স্কিমে ফান্ডের আকারের ১০% এর বেশি বিনিয়োগ করা যাবে না।
      • একই গ্রুপের অধিভুক্ত কোম্পানিগুলোতে সব মিলিয়ে ফান্ডের আকারের ২৫% এর বেশি বিনিয়োগ করা যাবে না।
      • ফান্ডের নিজস্ব কোনো শেয়ার বা ইউনিটে বিনিয়োগ করা যাবে না।
    • ঋণ প্রদান ও গ্রহণ: মিউচ্যুয়াল ফান্ড কাউকে ঋণ দিতে পারবে না এবং বিনিয়োগের জন্য নিজেও কোনো ঋণ নিতে পারবে না,।

    ফি এবং ব্যয়সীমা

    ফান্ড পরিচালনার খরচ নিয়ন্ত্রণের জন্য অষ্টম অধ্যায়ে ব্যয়ের সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

    • ব্যবস্থাপনা ফি (Management Fee): ফান্ডের সাপ্তাহিক গড় নিট সম্পদ মূল্যের (NAV) ওপর ভিত্তি করে সম্পদ ব্যবস্থাপক বার্ষিক ফি পাবেন। এর হার নিম্নরূপ:
      • ১ম ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত: ২.৫০%
      • পরবর্তী ৫ কোটি থেকে ২৫ কোটি পর্যন্ত: ১.৫০%
      • পরবর্তী ২৫ কোটি থেকে ৫০ কোটি পর্যন্ত: ১.২৫%
      • পরবর্তী ৫০ কোটি টাকার উপরে: ১.০০%
    • প্রারম্ভিক ব্যয়: স্কিম গঠনের প্রারম্ভিক ব্যয় ফান্ডের আকারের ১% বা ৫০ লক্ষ টাকার বেশি হতে পারবে না। এই ব্যয় ৫ থেকে ৭ বছরের মধ্যে অবলোপন (amortize) করতে হবে।

    মূল্য নির্ধারণ, লভ্যাংশ ও হিসাব রক্ষণ

    নবম অধ্যায়ে ফান্ডের সম্পদের মূল্য নির্ধারণ এবং লভ্যাংশ বন্টনের নিয়ম বলা হয়েছে।

    • নিট সম্পদ মূল্য (NAV): আন্তর্জাতিক হিসাব মান (IFRS/IAS) অনুযায়ী সম্পদের বাজার মূল্য বা ফেয়ার ভ্যালু পদ্ধতিতে NAV নির্ধারণ করতে হবে,।
    • লভ্যাংশ (Dividend):
      • ফান্ডের অর্জিত মুনাফা থেকে লভ্যাংশ ঘোষণা করা যাবে।
      • বে-মেয়াদি ফান্ডের ক্ষেত্রে লভ্যাংশ হিসেবে সাধারণত নগদ অর্থ (Cash Dividend) দিতে হবে। তবে কিউমুলেটিভ ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান (CIP) বা পুনঃবিনিয়োগের সুযোগ থাকলে ইউনিট ইস্যু করা যেতে পারে।
      • মেয়াদি ফান্ডের ক্ষেত্রে লভ্যাংশ নগদে প্রদান করতে হবে।
    • রিজার্ভ: লভ্যাংশ সমতা তহবিলের জন্য কোনো প্রভিশন রাখা যাবে না যা ১.৫% এর বেশি।

    আর্থিক প্রতিবেদন ও নিরীক্ষা

    স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দশম অধ্যায়ে নিরীক্ষা ও প্রতিবেদনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    • নিরীক্ষক নিয়োগ: ট্রাস্টি ফান্ডের জন্য অডিটর নিয়োগ করবেন। সম্পদ ব্যবস্থাপক বা ট্রাস্টির সাথে সম্পর্কিত কেউ অডিটর হতে পারবেন না।
    • প্রতিবেদন প্রকাশ: প্রতি ত্রৈমাসিক এবং বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করে কমিশন এবং ইউনিট হোল্ডারদের জানাতে হবে। বার্ষিক প্রতিবেদন হিসাব বছর শেষ হওয়ার ৩ মাসের মধ্যে প্রকাশ করতে হবে,।

    আচরণবিধি (Code of Conduct)

    বিধিমালার একাদশ অধ্যায় এবং তফসিলগুলোতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আচরণের মানদণ্ড ঠিক করে দেওয়া হয়েছে।

    • স্বার্থের সংঘাত: ট্রাস্টি, সম্পদ ব্যবস্থাপক বা কাস্টোডিয়ান এমন কোনো কাজ করবেন না যা ইউনিট হোল্ডারদের স্বার্থের পরিপন্থী বা নিজেদের মধ্যে স্বার্থের সংঘাত তৈরি করে,।
    • তথ্য প্রকাশ: ফান্ডের মূল্য সংবেদনশীল তথ্য গোপন করা যাবে না এবং বিভ্রান্তিকর কোনো তথ্য প্রচার করা যাবে না।

    স্কিম একত্রীকরণ ও বিলুপ্তি

    • একত্রীকরণ (Merger): বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে ট্রাস্টি ও সম্পদ ব্যবস্থাপক চাইলে কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে একাধিক স্কিমকে একত্রীকরণ করতে পারেন।
    • বিলুপ্তি (Winding Up): যদি ফান্ডের আকার নূন্যতম মূলধনের (বে-মেয়াদি ফান্ডের ক্ষেত্রে ২৫ কোটি টাকা) নিচে নেমে যায় অথবা ৭৫% ইউনিট হোল্ডার দাবি করেন, তবে স্কিমটি বিলুপ্ত বা উইন্ড-আপ করতে হবে।

    উপসংহার

    “বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মিউচ্যুয়াল ফান্ড) বিধিমালা, ২০২৫” একটি যুগোপযোগী পদক্ষেপ। এতে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা, ফান্ডের স্বচ্ছতা এবং সম্পদ ব্যবস্থাপকদের জবাবদিহিতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বিশেষ করে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগের বাধ্যবাধকতা, বিনিয়োগের সীমা নির্ধারণ এবং কঠোর অডিট ব্যবস্থা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনে সহায়ক হবে বলে আশা করা যায়। যারা মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী, তাদের জন্য এই বিধিমালার খুঁটিনাটি জানা অত্যন্ত জরুরি।

    দ্রষ্টব্য: এই ব্লগ পোস্টটি mutual fund 2025 থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। বিস্তারিত জানার জন্য মূল গেজেটটি দেখা যেতে পারে।

  • বিএসইসি বিনিয়োগ শিক্ষার উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ বিধিমালা, ২০১৬: নভেম্বর ০৬, ২০২৫ পর্যন্ত হালনাগাদকৃত

    একটি দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো তার পুঁজিবাজার। আর একটি শক্তিশালী ও স্থিতিশীল পুঁজিবাজার গঠনের পূর্বশর্ত হলো শিক্ষিত ও সচেতন বিনিয়োগকারী। বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তাদের সঠিক বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ২০১৬ সালে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

    তারা প্রণয়ন করে “বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিনিয়োগ শিক্ষার উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ) বিধিমালা, ২০১৬”। এই বিধিমালাটি সময়ের প্রয়োজনে বিভিন্ন সময় সংশোধিত হয়েছে এবং সর্বশেষ ০৬ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে এটি হালনাগাদ করা হয়েছে ।

    BSEC বিনিয়োগ শিক্ষার উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ বিধিমালা, ২০১৬

    আজকের এই ব্লগ পোস্টে আমরা এই বিধিমালার আদ্যপান্ত, এর কালানুক্রমিক বিবর্তন, বিনিয়োগ শিক্ষার কাঠামো, অর্থায়ন পদ্ধতি এবং একাডেমি প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো বিস্তারিত আলোচনা করব।


    প্রেক্ষাপট ও আইনি ভিত্তি

    বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩-এর ধারা ২৪-এর উপ-ধারা (১)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে কমিশন এই বিধিমালাটি প্রণয়ন করে। এটি প্রাথমিকভাবে ২২ নভেম্বর ২০১৬ তারিখে প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হয় এবং ২৬ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশিত হয় । এই বিধিমালার মূল উদ্দেশ্য হলো বিদ্যমান ও সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীসহ সর্বস্তরের জনগণের আর্থিক বিষয়ে জ্ঞান বৃদ্ধি করা ।

    এই বিধিমালার অধীনে “বিনিয়োগ শিক্ষা” কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে, যা ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সংশোধনীর মাধ্যমে আরও যুগোপযোগী করা হয়েছে।

    বিনিয়োগ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের কাঠামো

    বিধিমালার দ্বিতীয় অধ্যায়ে বিনিয়োগ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের রূপরেখা বর্ণনা করা হয়েছে। কমিশন বিনিয়োগকারীদের জ্ঞান বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিন ধরণের মেয়াদি কর্মসূচি গ্রহণ করার ক্ষমতা রাখে:

    ১. স্বল্প মেয়াদি: এক বছর বা তার কম সময়ের জন্য ।

    ২. মধ্য মেয়াদি: এক বছরের অধিক হতে তিন বছর পর্যন্ত ।

    ৩. দীর্ঘ মেয়াদি: তিন বছরের অধিক সময়ের জন্য ।

    শিক্ষার মাধ্যম ও প্রক্রিয়া: বিনিয়োগ শিক্ষা শুধুমাত্র শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। বিধিমালার ৪ নং বিধিতে শিক্ষার প্রসারে বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে:

    • উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা: একাডেমি এবং কমিশনের ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসি বিভাগ সমন্বিতভাবে দূর শিক্ষণ ও উপ-আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম গ্রহণ করবে। এর মধ্যে রয়েছে বিষয়ভিত্তিক পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, অনলাইন ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পাঠদান এবং পরীক্ষা গ্রহণ ।
    • ইলেকট্রনিক ও সৃজনশীল মাধ্যম: বিনিয়োগ শিক্ষাকে জনপ্রিয় করতে নাটিকা, বিজ্ঞাপন, প্রামাণ্যচিত্র, কার্টুন, কুইজ, বিতর্ক এবং সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতার আয়োজন করার কথা বলা হয়েছে ।
    • আনুষ্ঠানিক শিক্ষা: মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের পাঠ্যসূচিতে বিনিয়োগ শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা রয়েছে ।
    • অন্যান্য মাধ্যম: রোড শো, সেমিনার এবং ওয়ার্কশপের মাধ্যমেও শিক্ষা বিস্তারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে ।

    বিনিয়োগ শিক্ষা তহবিল: গঠন ও ব্যবস্থাপনা

    বিধিমালার শুরুতে কমিশন দেশব্যাপী বিনিয়োগ শিক্ষা প্রসারের জন্য একটি প্রাথমিক অর্থসংস্থান বা তহবিল গঠন করে। এই তহবিল ব্যবস্থাপনার বিষয়টি তৃতীয় অধ্যায়ে (বিধি ৯ থেকে ১১) বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

    তহবিল গঠন ও উৎস: “বিনিয়োগ শিক্ষা তহবিল” নামে গঠিত এই তহবিলে অর্থের উৎস হিসেবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, এক্সচেঞ্জ, ডিপোজিটরি, ক্লিয়ারিং ও সেটেলমেন্ট কোম্পানি, ইস্যুয়ার এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার অনুদান বা সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR) খাতের অর্থ জমা হওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

    হিসাবরক্ষণ ও নিরীক্ষা (Audit): তহবিলের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর অডিট বা নিরীক্ষা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কমিশনের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগ প্রতি ছয় মাসে একবার হিসাব নিরীক্ষা করবে। এছাড়া, প্রতি অর্থ বছর শেষ হওয়ার ১২০ দিনের মধ্যে একটি স্বীকৃত নিরীক্ষা ফার্ম দ্বারা বার্ষিক হিসাব বিবরণী নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে এবং পরবর্তী ১৪ দিনের মধ্যে তা কমিশনে দাখিল করতে হবে ।

    তহবিলের বিলুপ্তি ও রূপান্তর: এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ কালানুক্রমিক পরিবর্তনের বিষয় রয়েছে। বিধি ১১ অনুযায়ী, যখন এই বিধিমালার অধীনে “একাডেমি” প্রতিষ্ঠিত হবে, তখন কমিশন দ্বারা নির্ধারিত সময়ে এই প্রাথমিক “বিনিয়োগ শিক্ষা তহবিল” বিলুপ্ত হয়ে যাবে এবং এর সমুদয় অর্থ একাডেমির নিজস্ব তহবিলে একীভূত হবে ।

    বাংলাদেশ একাডেমি ফর সিকিউরিটিজ মার্কেট (BASM) প্রতিষ্ঠা

    এই বিধিমালার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল একটি বিশেষায়িত একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা। চতুর্থ অধ্যায়ে (বিধি ১২) “বাংলাদেশ একাডেমি ফর সিকিউরিটিজ মার্কেট (বিএএসএম)” প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে ।

    একাডেমির কার্যাবলি: একাডেমি প্রতিষ্ঠার পর বিনিয়োগ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম (যা আগে কমিশন সরাসরি করত) একাডেমি পরিচালনা করবে। এর মধ্যে রয়েছে প্রশিক্ষণ, সার্টিফিকেট কোর্স, ডিপ্লোমা এবং পোস্ট গ্রাজুয়েট কোর্স পরিচালনা করা । কমিশন অনুমোদিত হলে একাডেমি বিনামূল্যে বা ফি গ্রহণ সাপেক্ষে এসব কোর্স পরিচালনা করতে পারে ।

    পরিচালনা পর্ষদ (Board of Governors): একাডেমি পরিচালনার জন্য অনধিক ১৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি ‘বোর্ড অব গভর্নর’ থাকবে । বোর্ডের চেয়ারম্যান বা তাঁর অনুপস্থিতিতে নির্বাচিত কোনো সদস্যের সভাপতিত্বে বছরে কমপক্ষে তিনটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভার কোরাম পূর্ণ করতে এক-তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক ।

    একাডেমির নির্বাহী নিয়োগ: ২০২৫ সালের গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী

    বিধিমালার বিধি ১৫-তে একাডেমির নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এখানেই ০৬ নভেম্বর, ২০২৫ পর্যন্ত হালনাগাদকৃত তথ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনটি লক্ষ্য করা যায়।

    মূল বিধিমালার ১৫(১) বিধিতে বলা হয়েছে, একাডেমির প্রধান নির্বাহী হবেন “মহাপরিচালক” এবং উপ-প্রধান নির্বাহী হবেন “অতিরিক্ত মহাপরিচালক” ।

    ২০২৫ সালের সংশোধনী (বিধি ১৫-এর উপ-বিধি ২): ৩০ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে জারিকৃত এবং ০৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে গেজেটে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন (নম্বর- ৫৩.০২.০০০০.০০০.২০১.২২.০৩৫১.১৬.৯৬.২৭২.১৫৮) মূলে বিধি ১৫-এর উপ-বিধি (২) প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী:

    • কমিশন থেকে একজন নির্বাহী পরিচালক এবং একজন পরিচালক-কে প্রেষণে (Deputation) যথাক্রমে একাডেমির মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক হিসেবে পদায়ন করা হবে।
    • এই পদায়নের ক্ষেত্রে “বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা, ২০২১”-এর সংশ্লিষ্ট শর্ত পালন করতে হবে ।
    • ব্যতিক্রম: তবে শর্ত থাকে যে, যদি কোনো কারণে কমিশন তার নিজস্ব জনবল থেকে এই দুই পদে কর্মকর্তা পদায়ন করতে না পারে, তবে বোর্ড কমিশনের পূর্বানুমতিক্রমে এবং প্রযোজ্য শর্তসাপেক্ষে উপযুক্ত কোনো ব্যক্তিকে চুক্তভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করতে পারবে ।

    এই সংশোধনীটি একাডেমির প্রশাসনিক কাঠামোকে কমিশনের সাথে আরও নিবিড়ভাবে সংযুক্ত করেছে এবং প্রয়োজনে বাইরের বিশেষজ্ঞ নিয়োগের পথও খোলা রেখেছে।

    একাডেমি তহবিল ও বাজেট ব্যবস্থাপনা

    একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তার ব্যয় নির্বাহের জন্য “বাংলাদেশ একাডেমি ফর সিকিউরিটিজ মার্কেট তহবিল” গঠন করা হবে । কমিশনের প্রাথমিক তহবিল বিলুপ্ত হয়ে এই তহবিলে যুক্ত হবে। এছাড়াও পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা বৈদেশিক সংস্থার অনুদান এবং একাডেমির নিজস্ব আয় (কোর্স ফি ইত্যাদি) এখানে জমা হবে।

    আর্থিক বছর: একাডেমির অর্থ বছর গণনা করা হবে প্রতি পঞ্জিকা বছরের ১ জুলাই থেকে পরবর্তী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত ।

    অডিট রিপোর্ট: তহবিলের মতো একাডেমির বার্ষিক হিসাবও অর্থ বছর শেষের ১২০ দিনের মধ্যে অডিট করাতে হবে এবং পরবর্তী ১৪ দিনের মধ্যে কমিশনে দাখিল করতে হবে। তবে যুক্তিসঙ্গত কারণে ব্যর্থ হলে কমিশন সময়সীমা বৃদ্ধি করতে পারে ।

    সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের দায়িত্ব ও কর্তব্য

    পঞ্চম অধ্যায়ে (বিবিধ) পুঁজিবাজারের অন্যান্য অংশীজনদের দায়িত্ব সম্পর্কে বলা হয়েছে। শুধুমাত্র কমিশন বা একাডেমি নয়, বিনিয়োগ শিক্ষার দায়িত্ব এক্সচেঞ্জ, ডিপোজিটরি, এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ওপরও বর্তায়।

    • পৃথক বিভাগ গঠন: প্রত্যেক এক্সচেঞ্জ, ক্লিয়ারিং কোম্পানি, এবং বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানকে বিনিয়োগ শিক্ষার জন্য তাদের প্রতিষ্ঠানে একটি পৃথক বিভাগ বা ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করতে হবে ।
    • নিজস্ব অর্থায়ন: সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিজস্ব উদ্যোগে পরিচালিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ব্যয় নিজেরাই বহন করবে ।
    • তহবিলে অর্থ প্রদান: নিজস্ব ব্যয়ের পাশাপাশি, কমিশনের গৃহীত কর্মসূচির ব্যয় নির্বাহের জন্য এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিধিমালার অধীনে গঠিত কেন্দ্রীয় তহবিলে (কমিশনের তহবিল বা পরবর্তীতে একাডেমি তহবিল) নির্ধারিত অর্থ প্রদান করতে হবে ।
    • কর্মচারী ও গ্রাহক প্রশিক্ষণ: প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এবং গ্রাহকদের নিয়মিতভাবে আইন-কানুন, আচরণবিধি এবং বিনিয়োগ অধিকার সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিতে বাধ্য থাকবে ।
    • অভিযোগ নিষ্পত্তি: গ্রাহকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করাও এই শিক্ষার অংশ হিসেবে গণ্য হবে ।

    আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও চুক্তি

    বিনিয়োগ শিক্ষার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্যে একাডেমিকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। বিধি ২২ অনুযায়ী, কমিশনের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে একাডেমি দেশি-বিদেশি যেকোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার সাথে চুক্তি (Agreement) বা সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করতে পারবে । এটি প্রযুক্তিগত জ্ঞান আহরণ এবং বৈশ্বিক মানদণ্ড বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

    বিনিয়োগ শিক্ষার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্যে একাডেমিকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কমিশনের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে একাডেমি দেশি-বিদেশি যেকোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার সাথে চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করতে পারবে। এটি প্রযুক্তিগত জ্ঞান আহরণ এবং বৈশ্বিক মানদণ্ড বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

    উপসংহার

    “বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিনিয়োগ শিক্ষার উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ) বিধিমালা, ২০১৬” বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। ২০১৬ সালে এটি যখন জারি করা হয়, তখন এর মূল লক্ষ্য ছিল একটি বিচ্ছিন্ন শিক্ষা কার্যক্রমের পরিবর্তে একটি সমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখা তৈরি করা। পরবর্তীতে একাডেমি (BASM) প্রতিষ্ঠা এবং ২০২৫ সালের নভেম্বরের সংশোধনীর মাধ্যমে এর প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।

    বিশেষ করে, ২০২৫ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে একাডেমির শীর্ষ পদে কমিশনের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের প্রেষণে নিয়োগের বিধান (অথবা প্রয়োজনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ) একাডেমির কার্যক্রমে আরও গতিশীলতা ও পেশাদারিত্ব আনবে বলে আশা করা যায়। বিনিয়োগকারীরা যত বেশি শিক্ষিত হবেন, বাজার তত বেশি স্থিতিশীল হবে—এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করেই এই বিধিমালাটি সময়ের সাথে সাথে বিবর্তিত হচ্ছে।

    (দ্রষ্টব্য: এই ব্লগ পোস্টটি “Notification_09.02.2026.pdf” সোর্সে প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুতকৃত। উল্লেখিত তারিখ ও বিধিমালা সংশ্লিষ্ট নথির তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কালানুক্রমিকভাবে সাজানো হয়েছে।)