গ্রামীণ এবং স্থানীয় শিল্পখাতের জন্য Green Transformation Fund (GTF) হতে পুনঃ অর্থায়ন সুবিধা: একটি বিস্তারিত গাইড
বাংলাদেশ ব্যাংক দেশে পরিবেশবান্ধব এবং টেকসই অর্থনীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দীর্ঘকাল ধরে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের দেশের রপ্তানি এবং উৎপাদনমুখী শিল্পখাতে টেকসই প্রবৃদ্ধি বা সাসটেইনেবল গ্রোথ ত্বরান্বিত করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিপূর্বে ৫০০০ (পাঁচ হাজার) কোটি টাকার একটি আবর্তনশীল তহবিল গঠন করেছিল, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড’ বা সংক্ষেপে GTF। এই ফান্ডটি গঠন করার মূল উদ্দেশ্য ছিল, যোগ্য গ্রাহকেরা যখন তাদের শিল্প কারখানার জন্য মূলধনী যন্ত্রপাতি এবং যন্ত্রাংশ আমদানি করবেন, তখন সেই মূল্য পরিশোধের বিপরীতে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে তাদেরকে দেশীয় মুদ্রায় অর্থাৎ টাকায় পুনঃ অর্থায়ন সুবিধা প্রদান করা।

তবে একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কেবল রপ্তানি এবং বৃহৎ উৎপাদনমুখী শিল্পের উপর নির্ভর করলেই চলে না, বরং গ্রামীণ এবং স্থানীয় শিল্পের টেকসই উন্নয়ন বা Sustainability নিশ্চিত করাও সমানভাবে প্রয়োজন। গ্রামীণ অর্থনীতির এই বিশাল গুরুত্ব অনুধাবন করে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্ট ১১ মে ২০২৬ তারিখে একটি নতুন নীতিমালা (এসএফডি সার্কুলার নং-০১) জারি করেছে। এই নীতিমালার অধীনে মূল ৫০০০ কোটি টাকার গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড হতে ১০০০ (এক হাজার) কোটি টাকা কেবলমাত্র গ্রামীণ ও স্থানীয় শিল্পে পুনঃ অর্থায়ন সুবিধা প্রদানের জন্য পৃথকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। আজকের এই ব্লগে আমরা এই নীতিমালার বিস্তারিত দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করব।
Table of Contents
ফান্ডের আকার এবং উৎস
গ্রামীণ এবং স্থানীয় শিল্পখাতের টেকসই উন্নয়নের জন্য এই পুনঃ অর্থায়ন ফান্ডের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০০ (এক হাজার) কোটি টাকা। এটি একটি আবর্তনশীল (Revolving) তহবিল, অর্থাৎ এই ফান্ডের অর্থ গ্রাহকদের মাঝে বিতরণ এবং আদায়ের মাধ্যমে চক্রাকারে পরিচালিত হবে। এই সুবিশাল তহবিলের অর্থের সম্পূর্ণ যোগান আসবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব উৎস থেকে।
পুনঃ অর্থায়ন মেয়াদকাল এবং সুদের হার
প্রকল্পের ধরন এবং প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী এই পুনঃ অর্থায়ন সুবিধার মেয়াদকাল হবে ২ থেকে ৫ বছর। বাংলাদেশ ব্যাংক এই তহবিলের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় সুদের হার বা মুনাফার হার নির্ধারণ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক অংশগ্রহণকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংকগুলোর (PFI) কাছ থেকে মাত্র ১% হারে সুদ/মুনাফা আদায় করবে। অন্যদিকে, ব্যাংকগুলো যখন গ্রাহক পর্যায়ে এই ঋণ সুবিধা প্রদান করবে, তখন তারা গ্রাহকের উপর সর্বোচ্চ ৫% হারে সুদ বা মুনাফা আরোপ করতে পারবে। ফলে গ্রামীণ উদ্যোক্তারা অত্যন্ত স্বল্প সুদে এই ঋণ পাওয়ার সুযোগ লাভ করবেন।
মূল উদ্দেশ্য এবং আওতাভুক্ত খাতসমূহ
এই ফান্ডের প্রধান উদ্দেশ্য হলো গ্রামীণ এবং স্থানীয় শিল্পখাতে প্রচলিত বা পরিবেশবান্ধব মূলধনী যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ ক্রয় করার প্রক্রিয়াকে সহজীকরণ করা। বাংলাদেশ ব্যাংক সুনির্দিষ্টভাবে বেশ কয়েকটি খাতের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেছে, যেগুলোর জন্য এই ফান্ড থেকে সুবিধা পাওয়া যাবে। খাতগুলো হলো:
- নবায়নযোগ্য শক্তি বা Renewable energy।
- শক্তির দক্ষতা বা Energy efficiency।
- পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা বা Water conservation and management।
- বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বা Waste management।
- সম্পদ ব্যবহারে দক্ষতা ও পুনর্ব্যবহার বা Resource efficiency and recycling।
- কর্ম পরিবেশ উন্নয়ন উদ্যোগ বা Work environment improvement initiatives।
- পাশাপাশি, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সময়ে সময়ে নির্দেশিত অন্যান্য ক্ষেত্রেও এই তহবিলের অর্থায়ন পাওয়া যাবে।
অংশগ্রহণকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠান (PFI) হওয়ার শর্তাবলি
যেসব ব্যাংক গ্রাহকদেরকে এই ঋণ সুবিধা প্রদান করবে, তাদেরকে ‘অংশগ্রহণকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠান’ বা PFI (Participating Financial Institution) হিসেবে গণ্য করা হবে। এই তহবিলের আওতায় পুনঃ অর্থায়ন সুবিধা পাওয়ার জন্য আগ্রহী ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অবস্থিত সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্টের পরিচালকের সাথে একটি অংশগ্রহণ চুক্তি বা Participation Agreement (PA) সম্পাদন করতে হবে। তবে যে সকল ব্যাংক ইতিপূর্বে মূল Green Transformation Fund-এর অধীনে এই চুক্তি সম্পাদন করেছে, তাদেরকে নতুন করে আর কোনো চুক্তি করার প্রয়োজন নেই।
সব ধরণের ব্যাংক এই সুবিধা দিতে পারবে না, ব্যাংকগুলোর কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতা থাকতে হবে। যেমন, দেশের সকল রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংক এই পুনঃ অর্থায়ন সুবিধার আওতায় ঋণ প্রদান করতে পারবে। তবে বেসরকারি এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে তাদের শ্রেণিকৃত ঋণ বা খেলাপি ঋণের (Classified Loan) হার অবশ্যই ২০% এর কম হতে হবে। এছাড়া সকল ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সময়ে সময়ে জারিকৃত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সকল নীতিমালার যথাযথ পরিপালন নিশ্চিত করতে হবে।
গ্রাহক পর্যায়ে ঋণ প্রাপ্তির যোগ্যতা ও শর্তসমূহ
গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের এই ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট নিয়মাবলি ও শর্ত পালন করতে হবে:
- ঋণের ধরন ও গ্রেস পিরিয়ড: এটি মেয়াদী ঋণ/বিনিয়োগ (Term loan/investment) অথবা চলতি ও মেয়াদী ঋণের সমন্বয় (Product Mix) হিসেবে প্রদান করা যাবে। ব্যাংক ও গ্রাহকের সম্পর্কের ভিত্তিতে এই ঋণে সর্বোচ্চ ০৬ (ছয়) মাস পর্যন্ত গ্রেস পিরিয়ড বা কিস্তি পরিশোধের বিরতি পাওয়া যেতে পারে।
- সর্বোচ্চ ঋণ সীমা ও অনুপাত: একজন গ্রাহকের ঋণ/বিনিয়োগ-মূলধন অনুপাত হবে মোট আমদানি বা ক্রয়মূল্যের সর্বোচ্চ ৮০:২০। এর অর্থ হলো, প্রকল্প ব্যয়ের অন্তত ২০% অর্থ গ্রাহককে নিজের মূলধন থেকে জোগান দিতে হবে। এছাড়া কোনো একক ঋণগ্রহীতা এই তহবিলের আওতায় কোনোভাবেই ৫.০০ (পাঁচ) কোটি টাকার বেশি ঋণ সুবিধা পাবেন না।
- নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার: পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নকে উৎসাহিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি যুগান্তকারী শর্ত জুড়ে দিয়েছে। সেটি হলো, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে মোট যে পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হবে, তার ন্যূনতম দশ শতাংশ (১০%) অবশ্যই নবায়নযোগ্য জ্বালানি (Renewable energy) থেকে সংগ্রহ করতে হবে।
- খেলাপিদের জন্য নিষেধাজ্ঞা: কোনো খেলাপি ঋণগ্রহীতা এই পুনঃ অর্থায়ন সুবিধার জন্য বিবেচিত হবেনবেন না। ব্যাংক কর্তৃক বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদনের পূর্বেই সংশ্লিষ্ট গ্রাহক ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের হালনাগাদ CIB রিপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে এবং গ্রাহক যে ঋণ খেলাপি নন, তা স্পষ্টভাবে নিশ্চিত হতে হবে। পাশাপাশি ব্যাংককে গ্রাহকের ব্যাপারে যথাযথ Due diligence বা সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
পুনঃ অর্থায়নের আবেদন প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজনীয় দলিলাদি
অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোকে পুনঃ অর্থায়নের জন্য আবেদন করতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দলিলাদি দাখিল করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে:
- পুনঃ অর্থায়ন সুবিধার আওতায় ঋণ/বিনিয়োগ গ্রহণের বিষয়ে গ্রাহকের সম্মতিপত্র।
- গ্রাহকের হালনাগাদ CIB রিপোর্ট।
- এই তহবিল হতে সুবিধা গ্রহণের নিমিত্তে গ্রাহকের অনুকূলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের মঞ্জুরিপত্রের কপি।
- গ্রাহক ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বিস্তারিত প্রোফাইল।
- ঋণ বা বিনিয়োগ হিসাবের হালনাগাদ বিবরণী।
আবেদনপত্রটি PFI বা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (MD) বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) অথবা তার মনোনীত এক স্তর নিচের কোনো কর্মকর্তার স্বাক্ষরে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্ট বরাবর দাখিল করতে হবে।
প্রাক-পরিদর্শন এবং চূড়ান্ত অনুমোদন
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্টে আবেদন জমা দেওয়ার পর তারা তা সাথে সাথেই অনুমোদন করবে না। পুনঃ অর্থায়ন সুবিধা অনুমোদনের পূর্বে উক্ত ডিপার্টমেন্ট কর্তৃক সংশ্লিষ্ট প্রকল্পটির প্রাক-পরিদর্শন করা হবে। এই প্রাক-পরিদর্শন প্রতিবেদন, ব্যাংকের দাখিলকৃত আবেদন এবং আনুষঙ্গিক দলিলাদি গভীরভাবে পর্যালোচনার সাপেক্ষে পুনঃ অর্থায়ন সুবিধার সীমা চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হবে। পুনঃ অর্থায়ন অনুমোদনের পর PFI-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কর্তৃক স্বাক্ষরিত Demand Promissory Note, Letter of Continuity এবং Letter of Debit Authority বাংলাদেশ ব্যাংকে দাখিল করতে হবে।
তহবিলের অর্থ আদায় প্রক্রিয়া এবং জরিমানার বিধান
বাংলাদেশ ব্যাংক অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে এই ফান্ডের অর্থ আদায়ের প্রক্রিয়া নির্ধারণ করেছে। পুনঃ অর্থায়নকৃত অর্থ ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে একটি নির্দিষ্ট পরিশোধসূচি অনুযায়ী অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোর (PFI) নিকট হতে আদায়যোগ্য হবে। নির্ধারিত তারিখে পরিশোধযোগ্য কিস্তির পরিমাণ সুদ বা মুনাফাসহ বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের চলতি হিসাব হতে সরাসরি কর্তন করে নেওয়া হবে। এর জন্য ব্যাংকগুলোকে তাদের চলতি হিসাবে পর্যাপ্ত তহবিল বা স্থিতি সংরক্ষণ করতে হবে।
যদি কিস্তি আদায়ের সময় ব্যাংকের চলতি হিসাবে পর্যাপ্ত স্থিতি না থাকে, তবে বকেয়া অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে কড়া জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে পুনঃ অর্থায়নকালে যে সুদ বা মুনাফার হার নির্ধারিত ছিল, তার চেয়ে ৩% অধিক হারে অতিরিক্ত সময়ের জন্য সুদসহ জরিমানা আদায় করা হবে। এছাড়া, যদি কোনো গ্রাহক অনুমোদিত ঋণ মেয়াদের যেকোনো মুহূর্তে বিরূপমানে শ্রেণিকৃত বা খেলাপি হয়ে পড়েন, তাহলে বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট PFI-কে কোনো আগাম নোটিশ বা অবহিতকরণ ব্যতিরেকেই তাদের চলতি হিসাব থেকে অবশিষ্ট আসল অর্থ এককালীন কেটে নেবে।
রিপোর্টিং এবং নিয়মিত মনিটরিং
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে নিয়মিত বাংলাদেশ ব্যাংকে রিপোর্ট করতে হবে। PFI সমূহকে এই পুনঃ অর্থায়ন বাবদ গৃহীত অর্থের হালনাগাদ বিবরণী একটি নির্দিষ্ট ছক অনুযায়ী ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে দাখিল করতে হবে। প্রতি ত্রৈমাসিক শেষ হওয়ার পরবর্তী ১৫ (পনেরো) দিনের মধ্যে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর স্বাক্ষরিত ফরোয়ার্ডিং লেটারসহ এই বিবরণী সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্টের পরিচালকের নিকট জমা দিতে হবে। যে সকল ব্যাংক চুক্তি করেছে কিন্তু নির্দিষ্ট ত্রৈমাসিকে কোনো সুবিধা গ্রহণ করেনি, তাদেরকেও বাধ্যতামূলকভাবে শূন্য বিবরণী বা Zero Statement দাখিল করতে হবে। যদি কোনো ব্যাংক পুনঃ অর্থায়ন সুবিধা গ্রহণ করার পর কোনো ভুল তথ্য প্রদান করে অথবা যথাসময়ে ত্রৈমাসিক বিবরণী দাখিল করতে ব্যর্থ হয়, তবে বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের উপর নির্দিষ্ট হারে জরিমানা আরোপ করবে।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শর্তাবলি
- ব্যাংকের নিজস্ব দায়-দায়িত্ব: ঋণগ্রহীতা নির্বাচন করা, ঋণ মঞ্জুর ও বিতরণ করা, দলিলাদি সম্পাদন, অর্থের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং ঋণ বিতরণের পর তা তদারকির ব্যাপারে ব্যাংকগুলোকে তাদের নিজস্ব ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্ট কর্তৃক ২৬ জুন ২০২২ তারিখে ইস্যুকৃত ESRM প্রাসঙ্গিক সার্কুলার (এসএফডি সার্কুলার নং: ০৩) এবং অন্যান্য বিধি-বিধান যথাযথভাবে পালন করে গ্রাহককে সুবিধা প্রদান করতে হবে।
- আদায়ের ঝুঁকি: বিতরণকৃত এই ঋণ বা বিনিয়োগ আদায়ের সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব ঋণ প্রদানকারী ব্যাংকের উপরই ন্যস্ত থাকবে। গ্রাহক পর্যায়ে ব্যাংক ঋণ আদায় করতে পারুক বা না পারুক, এর সাথে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট কিস্তি পরিশোধের কোনো সম্পর্ক থাকবে না।
- ইসলামী ব্যাংকিং: ইসলামী শরিয়াহ ভিত্তিক ব্যাংকগুলোও এই ফান্ডের সুবিধা নিতে পারবে। উল্লিখিত কোনো শর্তের ব্যত্যয় না ঘটিয়ে, তারা তাদের নিজস্ব অনুমোদিত ইসলামী বিনিয়োগ পদ্ধতির ভিত্তিতে এই তহবিলের আওতায় গ্রাহকদের বিনিয়োগ প্রদান করতে পারবে।
- একক গ্রাহক সীমা ও চার্জ: ফান্ডের বিপরীতে ফি বা চার্জ নির্ধারণের ক্ষেত্রে ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ কর্তৃক ১০ জুন ২০২১ তারিখে জারিকৃত সার্কুলারের নির্দেশনাবলী প্রযোজ্য হবে। এছাড়া একক গ্রাহক ঋণ সীমার ক্ষেত্রে ‘ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১’-এর নির্দেশনাসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের বিআরপিডি সার্কুলার নং: ১/২০২২ অনুসরণ করতে হবে।
- নীতিমালা সংশোধন: বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্ট এই ফান্ডের শর্তাবলির যেকোনো ধরনের সংযোজন, বিয়োজন এবং পরিমার্জনের পূর্ণ অধিকার সংরক্ষণ করে।
উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, গ্রামীণ ও স্থানীয় শিল্পের প্রসারে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই ১০০০ কোটি টাকার বিশেষায়িত তহবিল একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। পরিবেশবান্ধব শর্তসমূহ (যেমন ১০% নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার) নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই উদ্যোগ একদিকে যেমন গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে, তেমনি অন্যদিকে পরিবেশ রক্ষায় এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই শিল্পায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। দেশের প্রান্তিক উদ্যোক্তারা এই সহজলভ্য ও স্বল্প সুদের ফান্ডের মাধ্যমে নিজেদের ব্যবসার প্রসারের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও বিশাল অবদান রাখতে সক্ষম হবেন।