বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে এক সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জনাব মোঃ মোস্তাকুর রহমান এফসিএমএ-কে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৪তম গভর্নর হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। দীর্ঘ ৩৩ বছরেরও বেশি সময়ের পেশাদার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন ‘কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট’ (CMA)-এর হাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব অর্পণ আর্থিক খাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তিনি পেশায় ব্যবসায়ী। তিনি হেরা সোয়েটার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। হেরা সোয়েটার্স নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত একটি পরিবেশবান্ধব কারখানা। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম একজন ব্যবসায়ীকে গভর্নর পদে নিয়োগ দেওয়া হলো।
Table of Contents
পরিচয়
জন্ম ও শিক্ষাগত পটভূমি
মোঃ মোস্তাকুর রহমান ১৯৬৬ সালের ১২ মে সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার শিক্ষার ভিত্তি গড়ে উঠেছে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৯৮৭ সালে অত্যন্ত সফলতার সাথে বি.কম (সম্মান) এবং ১৯৮৮ সালে স্নাতকোত্তর (Masters) ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি ১৯৯২ সালে পেশাদার ডিগ্রি হিসেবে FCMA (Fellow Cost and Management Accountant) অর্জন করেন, যা তাকে একজন উচ্চপদস্থ আর্থিক বিশেষজ্ঞ হিসেবে বৈশ্বিক পরিচিতি এনে দেয়।

পেশাগত যোগ্যতা
এই নিয়োগের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো তার নামের সাথে যুক্ত এফসিএমএ (FCMA) উপাধি। তিনি একজন ফেলো কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট (Fellow Cost and Management Accountant)।
- আর্থিক দক্ষতা: একজন এফসিএমএ হিসেবে তার রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যয় ব্যবস্থাপনা, আর্থিক পরিকল্পনা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা।
- নতুন দৃষ্টিভঙ্গি: সাধারণত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্বে অর্থনীতিবিদ বা আমলাদের দেখা গেলেও, একজন প্রফেশনাল অ্যাকাউন্ট্যান্টের অন্তর্ভুক্তি ব্যাংকিং খাতের অডিট, মনিটরিং এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিন দশকের সমৃদ্ধ কর্মজীবন
জনাব মোস্তাকুর রহমানের রয়েছে ৩৩ বছরেরও বেশি সময়ের পোস্ট-কোয়ালিফিকেশন অভিজ্ঞতা। তিনি কেবল একজন তাত্ত্বিক অর্থনীতিবিদ নন, বরং সরাসরি শিল্প ও ব্যবসার নাড়ি নক্ষত্র বোঝা একজন সফল উদ্যোক্তা এবং প্রশাসক।
প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্ব: গভর্নর হওয়ার আগে তিনি রপ্তানিমুখী বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান ‘হেরা সোয়েটার্স লিমিটেড’ (Hera Sweaters Limited)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (MD) এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
শিল্প ও বাণিজ্যে অবদান: তিনি দীর্ঘকাল ধরে বিজিএমইএ (BGMEA), রিহ্যাব (REHAB), ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স (DCCI) এবং আটাব (ATAB)-এর মতো প্রভাবশালী বাণিজ্য সংগঠনের সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন।
স্টক এক্সচেঞ্জ ও নীতিনির্ধারণ: ১৯৯৮ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত তিনি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (CSE)-এর বোর্ড সদস্য ছিলেন। এছাড়াও তিনি বিজিএমইএ-র ‘স্ট্যান্ডিং কমিটি অন বাংলাদেশ ব্যাংক’-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালার সাথে তার গভীর সংযোগের পরিচয় দেয়।
চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্যাংক সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি – বিজিএমইএ
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের প্রাক্তন বোর্ড সদস্য (১৯৯৮-২০০০)
সদস্য, বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)
সদস্য, রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (রিহ্যাব)
মূল দক্ষতা
সততা, নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতার জন্য তিনি সুপরিচিত। প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়ে তার দৃঢ় অঙ্গীকার রয়েছে। তার অভিজ্ঞতার প্রধান ক্ষেত্রগুলো হলো—
- আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সুশাসন
- ব্যাংকিং ও শিল্প অর্থায়ন
- রপ্তানি অর্থায়ন ও বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা
- প্রাতিষ্ঠানিক ঝুঁকি তদারকি
- কর্পোরেট ও নিয়ন্ত্রক নীতিমালা অনুসরণ
- মূলধন কাঠামো ও তারল্য ব্যবস্থাপনা
- বোর্ড পরিচালনা ও নৈতিক দায়িত্ব
- কৌশলগত অর্থনৈতিক পরিকল্পনা
- আর্থিক প্রতিবেদন ও জবাবদিহিতা
- স্টেকহোল্ডার সম্পৃক্ততা ও নীতিনির্ধারণী সংলাপ
- টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণ
বিশেষ দক্ষতা ও সক্ষমতা
একজন সিনিয়র ফিন্যান্সিয়াল গভর্ন্যান্স স্পেশালিস্ট হিসেবে তার দক্ষতার ক্ষেত্রগুলো অত্যন্ত বিস্তৃত:
- আর্থিক সুশাসন: কর্পোরেট ফিন্যান্স, এক্সপোর্ট ইকোনমিক্স এবং প্রাতিষ্ঠানিক গভর্ন্যান্স কাঠামো নির্মাণে তার রয়েছে ৩০ বছরেরও বেশি নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা।
- ব্যাংকিং ও শিল্প অর্থায়ন: শিল্পে অর্থায়ন, মূলধন কাঠামো ব্যবস্থাপনা এবং লিকুইডিটি বা তারল্য ব্যবস্থাপনায় তিনি একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে স্বীকৃত।
- আইনি ও নীতিগত জ্ঞান: বাংলাদেশ ব্যাংকের রেগুলেটরি কমপ্লায়েন্স এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নীতিনির্ধারকদের সাথে কাজ করেছেন।
ফেলো সদস্য, ইনস্টিটিউট অফ কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অফ বাংলাদেশ
পরামর্শমূলক ও বিশ্লেষণধর্মী সম্পৃক্ততা
- জাতীয় পর্যায়ের আর্থিক তথ্য বিশ্লেষণ ও কাঠামোবদ্ধ প্রতিবেদন প্রস্তুত
- প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসনসংক্রান্ত নথি প্রণয়নে পরামর্শ প্রদান
- জবাবদিহিতা কাঠামো উন্নয়নে অবদান
- শিল্পখাত-সংশ্লিষ্ট ম্যাক্রো-ফাইন্যান্স আলোচনায় বিশ্লেষণধর্মী অংশগ্রহণ
সমাজসেবা ও মানবিক দিক
পেশাদারিত্বের বাইরেও মোঃ মোস্তাকুর রহমান একজন নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবক। তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে যুক্ত রেখেছেন:
- প্যালিয়েটিভ কেয়ার: দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সেবায় তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
- শিক্ষা ও স্বাস্থ্য: সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা এবং অসহায় মানুষের চিকিৎসা সহায়তায় তার অংশগ্রহণ তাকে একজন সংবেদনশীল ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
- বিভিন্ন দাতব্য ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ
নিয়োগের শর্ত ও সময়কাল
২০২৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি জারিকৃত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তিনি যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী ৪ বছরের জন্য এই পদে আসীন থাকবেন। নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, তিনি অন্য সকল ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের সাথে তার বিদ্যমান কর্ম-সম্পর্ক ত্যাগ করবেন। বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২-এর ১০(৫) ধারা অনুযায়ী তাকে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রেক্ষাপট
আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে মো. মোস্তাকুর রহমানকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। আজ অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের পৃথক প্রজ্ঞাপনে সরকারের এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

একটি প্রজ্ঞাপনে গভর্নর পদে আহসান এইচ মনসুরের নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করার কথা জানিয়ে বলা হয়, জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
আরেকটি প্রজ্ঞাপনে নতুন গভর্নর নিয়োগের সিদ্ধান্ত জানিয়ে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ অনুযায়ী মো. মোস্তাকুর রহমানকে অন্য সব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম–সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে তাঁর যোগদানের তারিখ থেকে ৪ (চার) বছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগ প্রদান করা হলো। জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পরিবর্তন নিয়ে দুপুরে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘নতুন সরকারের অনেক কর্মসূচি এবং অগ্রাধিকার আছে। তার অংশ হিসেবে এই পরিবর্তন। শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকে নয়, অনেক জায়গায় পরিবর্তন হচ্ছে, আরও হবে।’
আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে এমন এক সময়ে নতুন গভর্নর নিয়োগ দেওয়া হলো, যখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভেতর বিক্ষোভ ও আন্দোলন (Protest inside Central Bank) চলছিল। অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের ব্যানারে কর্মকর্তারা তার পদত্যাগের দাবিতে কলমবিরতির ঘোষণা দিয়েছিল।
দিনভর যা হলো
২০২৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে বিভিন্ন দাবি পূরণ এবং তিন কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানো ও বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। এসব দাবি না মানলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে গভর্নরের পদত্যাগের দাবিতে কলমবিরতিতে যাবেন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা—এমন ঘোষণা দেওয়া হয় সমাবেশ থেকে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের ‘স্বৈরাচারী’ আচরণের প্রতিবাদে সংস্থাটির সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।
প্রতিবাদ সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক ও সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা চেয়েছি বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন, কিন্তু পেয়েছি স্বৈরশাসন। এই স্বৈরশাসনে আমরা থাকতে চাই না। আমাদের কিছু ন্যায্য দাবি নিয়ে বারবার গভর্নরের কাছে গিয়েছিলাম, কিন্তু তিনি সেগুলো আমলে নেননি। বরং উনি দমন-নিপীড়নের আশ্রয় নিয়েছেন।’
শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে ভরিয়ে ফেলা হয়েছে। ওনার (গভর্নর) অনেক উপদেষ্টা ও পরামর্শক প্রয়োজন, কিন্তু এখন পর্যন্ত অর্থনীতির জন্য কোনো কার্যকর নীতি গ্রহণ করতে দেখি না। উনি ক্রমাগতভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে মনোবল ভেঙে দিচ্ছেন। এ ছাড়া ব্যাংক খাত নিয়ে যে ধরনের মন্তব্য করে যাচ্ছেন, তাতে ব্যাংক খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। গভর্নরের ইচ্ছেমতো কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলবে না। সবকিছু নিয়ে ওনাকে জবাবদিহি করতে হবে।’
এ সময় শোকজ ও বদলি প্রত্যাহারের দাবি জানান শাহরিয়ার সিদ্দিকী। তা না হলে সবাইকে শোকজ ও বদলির দাবি জানান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও ডেপুটি হেড অব বিএফআইইউ মফিজুর রহমান খান চৌধুরী বলেন, ‘বিগত সাত-আট মাস ধরে ন্যায্য দাবি উত্থাপন করেছি গভর্নরের কাছে। কিন্তু তিনি তা মানেননি। আমরা আশা করি, উনি আমাদের ন্যায্য দাবিদাওয়া মেনে নেবেন। কোনো অন্যায্য দাবি জানানো হয়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মর্যাদা রক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন।’
অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের সভাপতি মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘গভর্নর বিভিন্ন স্বৈরাচারী পদক্ষেপ নিয়েছেন, এসবের তীব্র নিন্দা জানাই। গতকাল আমাদের তিনজনকে শোকজ নোটিশের জবাব দেওয়ার আগেই বদলি করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি সমাধানের জন্য ওনার কাছে গেলেও উনি দেখা করেন না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের শোকজ নোটিশ ও বদলি প্রত্যাহারসহ অন্যান্য দাবিদাওয়া আজকের মধ্যে বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি। যদি তা বাস্তবায়ন না করা হয়, তাহলে আগামীকাল থেকে প্রতীকী কলমবিরতিতে যাব। আর রোববার সর্বস্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ ও গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে ‘স্বৈরাচার’ বলেছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের তিন কর্মকর্তা। আট দিনের মাথায় গতকাল মঙ্গলবার ওই তিন কর্মকর্তাকে ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়। এর আগে গত সোমবার তাঁদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
উপসংহার
মোঃ মোস্তাকুর রহমান এফসিএমএ-র গভর্নর হিসেবে নিয়োগ বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে ‘টেকনোক্র্যাট’ নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল উদাহরণ। তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দক্ষতা দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়ক হবে বলেই বিশ্লেষকরা মনে করছেন। গুলশানের বাসিন্দা এই নিভৃতচারী কিন্তু অত্যন্ত দক্ষ পেশাদার ব্যক্তি এখন ১৬ কোটি মানুষের আর্থিক নিরাপত্তার পাহারাদার।