আপনি কি মাসের শেষে বেতনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন? ঋণের কিস্তি কি আপনার রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে? অথবা আপনি কি মনে করেন যে আপনি প্রচুর পরিশ্রম করছেন কিন্তু আর্থিকভাবে কোথাও পৌঁছাতে পারছেন না? যদি এই প্রশ্নগুলোর উত্তর “হ্যাঁ” হয়, তবে আপনি একা নন। আমাদের সমাজের অধিকাংশ মানুষই এই “পে-চেক টু পে-চেক” জীবনযাপনে অভ্যস্ত। কিন্তু এর থেকে বের হওয়ার একটি পরীক্ষিত রাস্তা আছে।
আমরা অনেকেই মাসের শেষে বেতনের অপেক্ষায় থাকি, ক্রেডিট কার্ডের বিল দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলি এবং ভাবি—”টাকা আসলে কোথায় যায়?” আমিও একসময় ঠিক এই জায়গাতেই ছিলাম। আর্থিক দুশ্চিন্তা ছিল আমার নিত্যদিনের সঙ্গী। কিন্তু ডেভ রামসের লেখা দ্য টোটাল মানি মেকওভার (The Total Money Makeover) বইটি পড়ার পর আমার চিন্তাধারা এবং অর্থ ব্যবস্থাপনার কৌশল সম্পূর্ণ বদলে গেছে। এই বইটি কোনো জাদুকরী মন্ত্র নয়, বরং এটি একটি বাস্তবসম্মত, পরীক্ষিত এবং কার্যকর পরিকল্পনা বা “গেম প্ল্যান”।
বিখ্যাত আমেরিকান ব্যক্তিগত অর্থ বিশেষজ্ঞ ডেভ রামসে তার বেস্টসেলিং বই দ্য টোটাল মানি মেকওভার-এ আর্থিক স্বাধীনতার যে ব্লু-প্রিন্ট দিয়েছেন, তা বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন পরিবর্তন করেছে। তার এই পরিকল্পনাটি “বেবি স্টেপস” (Baby Steps) নামে পরিচিত। এই ব্লগ পোস্টে আমরা এই ৭টি ধাপ বিস্তারিত আলোচনা করব, যা অনুসরণ করে আপনিও আর্থিক শান্তি অর্জন করতে পারেন।
আজকের এই ব্লগে আমি শেয়ার করব এই বইটি থেকে আমি কী শিখেছি এবং কীভাবে এই শিক্ষাগুলো আপনার জীবনকেও বদলে দিতে পারে।
Table of Contents
সমস্যাটি অংকে নয়, আয়নায়
বইটি পড়ার শুরুতে আমার সবচেয়ে বড় যে ভুল ধারণাটি ভেঙেছে তা হলো—আমি ভাবতাম ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনা বা পার্সোনাল ফাইন্যান্স মানেই হলো শুধু অংক বা ম্যাথ। কিন্তু ডেভ রামসে শুরুতেই বলেছেন, “পার্সোনাল ফাইন্যান্স হলো ৮০ শতাংশ আচরণ (behavior) এবং মাত্র ২০ শতাংশ জ্ঞান (head knowledge)।”
আমরা জানি যে ওজন কমাতে হলে আমাদের কম খেতে হবে এবং ব্যায়াম করতে হবে—এটা খুব সাধারণ জ্ঞান। কিন্তু তবুও আমরা ওজন কমাতে পারি না কেন? কারণ সমস্যাটা আমাদের জ্ঞানে নয়, সমস্যাটা আমাদের আচরণে বা অভ্যাসে। টাকার ক্ষেত্রেও তাই। আমরা জানি যে আয়ের চেয়ে ব্যয় কম করতে হবে, কিন্তু আমরা তা করি না।
ডেভ রামসে বলেন, যদি আপনি আপনার আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন চান, তবে আপনাকে আয়নায় নিজের দিকে তাকাতে হবে। সমস্যাটি আপনি নিজে। যদি আপনি আপনার আচরণ পরিবর্তন করতে পারেন, তবেই আপনি অর্থে জিততে পারবেন।
ঋণ কোনো হাতিয়ার নয়
আমাদের সমাজে একটি বড় মিথ প্রচলিত আছে যে, “ঋণ একটি টুল বা হাতিয়ার, যা দিয়ে আমরা ধনী হতে পারি।” আমরা ভাবি লোন নিয়ে বাড়ি কেনা, কার লোন নিয়ে গাড়ি কেনা বা ক্রেডিট কার্ডে পয়েন্ট জমানো—এগুলো স্মার্ট মানুষের কাজ। কিন্তু রামসে এই ধারণাটিকে সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন।
বইটি থেকে আমি শিখেছি যে, ঋণ আসলে ঝুঁকি বাড়ায়। যখন আপনার কোনো পেমেন্ট বা কিস্তি থাকে না, তখন আপনার আয়ের পুরোটার মালিক আপনি। কিন্তু ঋণ থাকলে আপনি ব্যাংকের গোলাম হয়ে যান। বাইবেলের একটি উক্তি তিনি উল্লেখ করেছেন, “ঋণগ্রহীতা ঋণদাতার দাস” (The borrower is slave to the lender)।
ধনীরা ক্রেডিট কার্ডের পয়েন্ট বা এয়ারলাইন মাইলস জমিয়ে ধনী হননি; তারা ধনী হয়েছেন তাদের আয়কে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সুদ প্রদান না করে, বরং সুদ অর্জন করে।
আর্থিক শান্তির ৭টি বেবি স্টেপস (The 7 Baby Steps)
বইটির মূল ভিত্তি হলো ৭টি সহজ কিন্তু শক্তিশালী ধাপ, যা “বেবি স্টেপস” নামে পরিচিত। এই ধাপগুলো ক্রমানুসারে অনুসরণ করতে হয়। একসাথে সব করতে গেলে ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, তাই ছোট ছোট পদক্ষেপে এগিয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
বেবি স্টেপ ১: ১,০০০ ডলারের প্রাথমিক জরুরি তহবিল (Save $1,000 Fast)
আর্থিক পরিবর্তনের যাত্রা শুরু করার জন্য প্রথম পদক্ষেপটি খুব দ্রুত নিতে হয়। প্রথম ধাপ হলো যত দ্রুত সম্ভব ১,০০০ ডলার (বা আপনার দেশের মুদ্রায় সমপরিমাণ অর্থ, যা দিয়ে ছোটখাটো বিপদের মোকাবেলা করা যায়) সঞ্চয় করা।
কেন ১,০০০ ডলার?
অনেকেই প্রশ্ন করেন, ঋণ শোধ না করে কেন আগে টাকা জমাব? উত্তর হলো—”মারফি” (Murphy)। মারফির সূত্র বলে, “যা খারাপ হতে পারে, তা হবেই।” আপনি যখনই ঋণ শোধ করার সিদ্ধান্ত নেবেন, দেখবেন হঠাৎ গাড়ি নষ্ট হয়েছে বা কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আপনার কাছে যদি নগদ টাকা না থাকে, তবে এই বিপদের সময় আপনি আবার ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করবেন বা ঋণ করবেন। ফলে ঋণের চক্র থেকে আর বের হতে পারবেন না।
এই ১,০০০ ডলার হলো আপনার “মারফি রিপেলেন্ট” বা বিপদ তাড়ানোর ওষুধ। এটি আপনাকে নতুন করে ঋণ করা থেকে বিরত রাখবে। মনে রাখবেন, এই টাকা বিনিয়োগের জন্য নয়, এটি শুধুমাত্র বিপদের জন্য। অতিরিক্ত কাজ করে, অপ্রয়োজনীয় জিনিস বিক্রি করে বা খরচ কমিয়ে—যেকোনো মূল্যে এক মাসের মধ্যে এই তহবিল গঠন করুন।
বেবি স্টেপ ২: ডেবট স্নোবল বা ঋণের বরফপিণ্ড (The Debt Snowball)
এখন আপনার কাছে ছোটখাটো বিপদ সামলানোর মতো টাকা আছে। এবার সময় এসেছে ঋণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করার। এই ধাপটি হলো বাড়ির লোন বা মর্টগেজ ছাড়া অন্য সব ঋণ পরিশোধ করা। এর জন্য রামসে “ডেবট স্নোবল” পদ্ধতি ব্যবহার করতে বলেন।
কিভাবে করবেন?
১. আপনার সব ঋণ ছোট থেকে বড় ক্রমানুসারে তালিকাভুক্ত করুন। সুদের হারের দিকে তাকানোর প্রয়োজন নেই।
২. সব ঋণের ন্যূনতম পেমেন্ট চালিয়ে যান।
৩. আপনার সমস্ত শক্তি এবং অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে তালিকার সবচেয়ে ছোট ঋণটি আগে শোধ করুন।
৪. যখন ছোট ঋণটি শোধ হয়ে যাবে, তখন সেই ঋণের কিস্তির টাকা এবং আপনার হাতে থাকা অতিরিক্ত টাকা যোগ করে দ্বিতীয় ছোট ঋণটির ওপর আক্রমণ করুন।
কেন ছোট থেকে শুরু?
গাণিতিকভাবে হয়তো সর্বোচ্চ সুদের ঋণ আগে শোধ করা সঠিক মনে হতে পারে। কিন্তু মনে রাখবেন, পাহাড়ের চূড়া থেকে ছোট বরফপিণ্ড গড়িয়ে দিলে যেমন তা নিচে নামতে নামতে বিশাল আকার ধারণ করে, ঠিক তেমনি আপনার ঋণ শোধের গতিও বাড়তে থাকে। Debt Snowball পদ্ধতিতে সুদের হারের পরিবর্তে ছোট ঋণ আগে শোধ করার প্রধান সুবিধাগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১. মানসিক উৎসাহ এবং দ্রুত ফলাফল (Quick Wins) ডেভ রামসের মতে, ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনা ৮০ শতাংশ আচরণ (behavior) এবং মাত্র ২০ শতাংশ অংক বা গণিত। এই পদ্ধতির প্রধান সুবিধা হলো এটি আপনাকে দ্রুত ছোটখাটো কিছু বিজয় বা “কুইক উইন” এনে দেয়। যখন আপনি খুব দ্রুত একটি ছোট ঋণ শোধ করে ফেলেন, তখন আপনি চোখের সামনে ফলাফল দেখতে পান। এটি আপনাকে মানসিকভাবে চাঙ্গা করে এবং পরিকল্পনাটি চালিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহ বা “আগুন” (lights your fire) জ্বালিয়ে দেয় ।
২. আচরণ পরিবর্তন এবং মোটিভেশন গাণিতিকভাবে হয়তো বেশি সুদের ঋণ আগে শোধ করা সঠিক মনে হতে পারে, কিন্তু রামসে যুক্তি দেন যে মানুষ যদি শুধু অংক দিয়েই চলত তবে তারা ঋণেই পড়ত না। ডেবট স্নোবল পদ্ধতি মানুষের আচরণ পরিবর্তনে সাহায্য করে। ডায়েট করার সময় প্রথম সপ্তাহে ওজন কমলে মানুষ যেমন ডায়েট চালিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত হয়, তেমনি দ্রুত ঋণ কমতে দেখলে মানুষ ঋণমুক্ত হওয়ার জেদ ধরে রাখতে পারে।
৩. স্নোবল ইফেক্ট বা গতি বৃদ্ধি যখন সবচেয়ে ছোট ঋণটি শোধ হয়ে যায়, তখন সেই ঋণের জন্য যে টাকাটি বরাদ্দ ছিল (মিনিমাম পেমেন্ট এবং অতিরিক্ত টাকা), তা দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম ঋণটির পেমেন্টের সাথে যোগ করা হয়। এভাবে প্রতিটি ঋণ শোধ হওয়ার পর পেমেন্টের পরিমাণ বাড়তে থাকে, ঠিক যেমন পাহাড় থেকে গড়িয়ে পড়া ছোট বরফপিণ্ড ক্রমশ বিশাল আকার ধারণ করে। তালিকার শেষের দিকের বড় ঋণগুলোতে পৌঁছাতে পৌঁছাতে আপনার পেমেন্ট একটি বিশাল “অ্যাভালেঞ্চ” বা তুষারধসে পরিণত হয়, যা দিয়ে বড় ঋণগুলো দ্রুত শোধ করা সম্ভব হয়।
৪. চাক্ষুষ অগ্রগতি ঋণের তালিকা চোখের সামনে রেখে (যেমন রেফ্রিজারেটরের দরজায়) একটি একটি করে ঋণ কেটে ফেলার মাধ্যমে যে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়, তা মানুষকে মানসিকভাবে শক্তিশালী রাখে। একজন ঋণের তালিকা থেকে ঋণ কেটে ফেলার আনন্দকে “চিৎকার” করে উদযাপন করার মতো বিষয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা প্রমাণ করে এই পদ্ধতিটি কতটা কার্যকর ।
এই ধাপে আপনাকে “গেজেল ইনটেনসিটি” বা জীবন বাঁচানোর তীব্রতা নিয়ে কাজ করতে হবে। চিতা বাঘের হাত থেকে বাঁচতে হরিণ যেমন দৌড়ায়, ঋণ থেকে বাঁচতে আপনাকেও তেমনই তীব্র হতে হবে।
বেবি স্টেপ ৩: ৩ থেকে ৬ মাসের পূর্ণাঙ্গ জরুরি তহবিল (Fully Funded Emergency Fund)
অভিনন্দন! আপনি এখন বাড়ির লোন ছাড়া সম্পূর্ণ ঋণমুক্ত। আপনার হাতে এখন অনেক অতিরিক্ত টাকা, কারণ কোনো কিস্তি দিতে হচ্ছে না। কিন্তু এখনই সেই টাকা খরচ করবেন না। বেবি স্টেপ ১-এর সেই ১,০০০ ডলারের তহবিলটি এখন আর যথেষ্ট নয়। এখন সময় এসেছে একটি মজবুত সুরক্ষা প্রাচীর তৈরি করার।
এই ধাপে আপনাকে ৩ থেকে ৬ মাসের সাংসারিক খরচের সমপরিমাণ টাকা জমাতে হবে। এই টাকাটি একটি সেভিংস বা মানি মার্কেট অ্যাকাউন্টে রাখুন যা সহজেই তোলা যায়, কিন্তু খুব সহজে খরচ করা যায় না।
কেন এত টাকা?
চাকরি চলে যাওয়া, বড় কোনো অসুস্থতা বা বড় ধরনের অর্থনৈতিক ধস নামলে এই তহবিল আপনাকে রক্ষা করবে। এটি আপনাকে মানসিক শান্তি দেবে। যখন আপনার ব্যাংকে কয়েক মাসের খরচের টাকা থাকে, তখন জীবনের বড় বিপদগুলো আর সংকট থাকে না, সেগুলো কেবল সাময়িক অসুবিধায় পরিণত হয়।
বেবি স্টেপ ৪: আয়ের ১৫ শতাংশ অবসরের জন্য বিনিয়োগ (Invest 15% for Retirement)
ঋণ নেই, ব্যাংকে পর্যাপ্ত টাকা আছে—এবার সময় এসেছে ভবিষ্যৎ গড়ার। এই ধাপে আপনার মোট পারিবারিক আয়ের ১৫ শতাংশ অর্থ অবসরের জন্য বিনিয়োগ করতে হবে।
রামসে সাধারণত ভালো গ্রোথ স্টক মিউচুয়াল ফান্ডে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের পরামর্শ দেন। লক্ষ্য হলো চক্রবৃদ্ধি মুনাফার সুবিধা নেওয়া, যাতে বৃদ্ধ বয়সে আপনাকে কারো মুখাপেক্ষী হতে না হয়।
মনে রাখবেন, ১৫ শতাংশের বেশি এই ধাপে বিনিয়োগ করবেন না, কারণ আমাদের আরও কিছু ধাপ বাকি আছে।
বেবি স্টেপ ৫: সন্তানদের কলেজের জন্য সঞ্চয় (Save for College)
যদি আপনার সন্তান থাকে, তবে তাদের উচ্চ শিক্ষার খরচের জন্য সঞ্চয় করা এই ধাপের কাজ। অনেকেই সন্তানের শিক্ষার জন্য নিজেদের আর্থিক নিরাপত্তা বিসর্জন দেন। কিন্তু আগে নিজের অবসর নিশ্চিত করতে হবে, তারপর সন্তানের শিক্ষা। কারণ সন্তানরা শিক্ষার জন্য বিকল্প পথ খুঁজে পেতে পারে, কিন্তু আপনি অবসরের জন্য ঋণ নিতে পারবেন না।
বেবি স্টেপ ৬: বাড়ির লোন পরিশোধ (Pay Off the Home Mortgage)
এই ধাপে আপনার বাজেটে যা অতিরিক্ত টাকা আছে, তার সবটুকু দিয়ে বাড়ির লোন দ্রুত শোধ করুন। অনেকেই ট্যাক্স সুবিধার কথা বলে মর্টগেজ ধরে রাখতে চান। কিন্তু ঋণমুক্ত জীবনের মানসিক শক্তি এবং নগদ প্রবাহের স্বাধীনতা কোনো ট্যাক্স সুবিধার চেয়ে অনেক বড়।
কল্পনা করুন, আপনার বেতনের চেকটি পুরোপুরি আপনার নিজের। কোনো কিস্তি নেই, কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এই অবস্থানই প্রকৃত আর্থিক শক্তির প্রতীক।
বেবি স্টেপ ৭: সম্পদ বৃদ্ধি এবং দান (Build Wealth and Give)
আপনি এখন ঋণমুক্ত, বাড়ির মালিক, এবং বিনিয়োগে সুসংগঠিত। এই ধাপ হলো উপভোগ, বিনিয়োগ এবং দানের ধাপ।
১. জীবনকে উপভোগ করুন।
২. বিনিয়োগের মাধ্যমে সম্পদ আরও বৃদ্ধি করুন।
৩. খোলা হাতে দান করুন এবং অন্যদের সাহায্য করুন।
যদি আপনি আজ ত্যাগ স্বীকার করে পরিকল্পনা মেনে চলেন, তবে ভবিষ্যতে এমনভাবে জীবনযাপন করতে পারবেন যা অনেকের কাছেই স্বপ্নের মতো।
উপসংহার
আর্থিক শান্তি কোনো জাদুর কাঠি নয়। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া যার জন্য প্রয়োজন ধৈর্য, ত্যাগ এবং সঠিক পরিকল্পনা। ডেভ রামসের ৭টি বেবি স্টেপস একটি সুসংগঠিত ও বাস্তবসম্মত পথনকশা, যা অনুসরণ করলে যে কেউ ঋণমুক্ত ও স্বাবলম্বী জীবন গড়তে পারে।
আপনি যদি আজ থেকেই পরিবর্তন চান, তবে সিদ্ধান্ত নিন। বাজেট তৈরি করুন, ঋণের তালিকা করুন এবং প্রথম ধাপ দিয়ে শুরু করুন। শুরুটা কঠিন হতে পারে, কিন্তু ফলাফল হবে অসাধারণ। আপনি কি আপনার পরিবারের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে প্রস্তুত?