দেশের মুদ্রা বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার তারল্য ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ‘Guidelines for Open Market Operations’ বা ওপেন মার্কেট অপারেশনস (OMO) নির্দেশিকা জারি করেছে। ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তারিখে ডিএমডি সার্কুলার নং-০২ এর মাধ্যমে এই নির্দেশিকাটি প্রকাশ করা হয় এবং এটি ২০২৬ সালের ০৩ মে তারিখ হতে কার্যকর হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেট ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট (DMD) এই নীতিমালের তদারকি ও পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত। এই ব্লগে আমরা এই নির্দেশিকার মূল দিকগুলো ক্রমানুসারে এবং বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব।
Table of Contents
ওপেন মার্কেট অপারেশনস (OMO) এর মূল উদ্দেশ্য
বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রণীত এই নির্দেশিকার মূল লক্ষ্য হলো ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোকে স্বল্পমেয়াদী তারল্য সহায়তা প্রদান করা এবং বাজার থেকে অতিরিক্ত তারল্য উত্তোলন প্রক্রিয়াকে স্পষ্ট করা। আধুনিক ও সমন্বিত কাঠামোর আওতায় এই কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সামগ্রিক মুদ্রানীতি বাস্তবায়নকে সহজতর ও সুসংহত করাই এর প্রধান উদ্দেশ্য। এটি মূলত বাজারে অর্থ সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ এবং সুদের হারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।
গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞাসমূহ
নির্দেশিকাটি সঠিকভাবে বোঝার জন্য কিছু মূল শব্দ বা সংজ্ঞার ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি:
- ওপেন মার্কেট অপারেশন (OMO): এটি মুদ্রানীতি বাস্তবায়নের এমন একটি মাধ্যম যার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে অর্থের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। এর প্রধান সরঞ্জামগুলোর মধ্যে রয়েছে রেপো, স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি, স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি এবং বাংলাদেশ ব্যাংক বিল।
- রিপারচেজ অ্যাগ্রিমেন্ট (Repo): এটি একটি স্বল্পমেয়াদী ব্যবস্থা যেখানে ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে তাদের কাছে থাকা ট্রেজারি বিল বা বন্ড বিক্রির মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করে এবং ভবিষ্যতে একটি নির্দিষ্ট তারিখে তা পুনরায় কেনার প্রতিশ্রুতি দেয়।
- স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (SLF): ব্যাংকগুলোর যখন হঠাৎ অর্থের প্রয়োজন হয়, তখন তারা জামানতের বিপরীতে ওভারনাইট বা এক রাতের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে যে ঋণ নেয়, তাকে SLF বলা হয়।
- স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (SDF): ব্যাংকগুলোর কাছে যদি অতিরিক্ত অলস টাকা থাকে, তবে তারা কোনো জামানত ছাড়াই নির্দিষ্ট সুদে বাংলাদেশ ব্যাংকে সেই টাকা জমা রাখতে পারে।
- বাংলাদেশ ব্যাংক বিল (BB Bill): বাজার থেকে অতিরিক্ত তারল্য দীর্ঘমেয়াদে তুলে নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক এই বিল ইস্যু করে। এটি মূলত একটি স্বল্পমেয়াদী ঋণপত্র।
- ইসলামিক ব্যাংকস লিকুইডিটি ফ্যাসিলিটি (IBLF): এটি শরীয়াহ ভিত্তিক ব্যাংকগুলোর জন্য তৈরি একটি ব্যবস্থা যা মুদারাবাহ চুক্তির ভিত্তিতে পরিচালিত হয়।
প্রথাগত ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানির জন্য OMO সরঞ্জামসমূহ
বাংলাদেশ ব্যাংক প্রচলিত ব্যাংকগুলোর জন্য মূলত চারটি প্রধান হাতিয়ার ব্যবহার করে তারল্য নিয়ন্ত্রণ করে।
১. রিপারচেজ অ্যাগ্রিমেন্ট (Repo)
রেপো হলো বাজারে অর্থ সরবরাহের অন্যতম প্রধান মাধ্যম।
- মেয়াদ: এটি সাধারণত ১ দিন (ওভারনাইট) এবং ৭ দিন মেয়াদী হয়।
- সময়সূচী: ৭ দিনের রেপো অপারেশনটি নিয়মিতভাবে প্রতি মঙ্গলবার পরিচালিত হয়। তবে সিআরআর (CRR) সংরক্ষণের শেষ দিনে যদি কোনো নিয়মিত রেপো না থাকে, তবে ব্যাংকগুলোর সুবিধার্থে ১ দিনের রেপো আয়োজন করা হতে পারে।
- সুদের হার: মুদ্রানীতি কমিটি (MPC) কর্তৃক সময়ে সময়ে নির্ধারিত ‘পলিসি রেট’ অনুযায়ী রেপোর সুদের হার নির্ধারিত হয়।
২. স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (SLF)
এটি ব্যাংকগুলোর জন্য একটি আপদকালীন ব্যবস্থা।
- মেয়াদ: এটি শুধুমাত্র ১ দিন বা ওভারনাইট মেয়াদী হয়।
- সময়সূচী: প্রতিটি কার্যদিবসেই ব্যাংকগুলো এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারে।
- সুদের হার: এটি পলিসি রেটের একটি নির্দিষ্ট করিডোর অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।
৩. স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (SDF)
যখন বাজারে টাকার প্রবাহ অনেক বেড়ে যায়, তখন মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এটি ব্যবহার করা হয়। এটিও ওভারনাইট মেয়াদী এবং প্রতিটি কার্যদিবসে ব্যাংকগুলো তাদের উদ্বৃত্ত অর্থ এখানে জমা রাখতে পারে। এতে ব্যাংকগুলোকে কোনো সিকিউরিটিজ বা জামানত দেওয়া হয় না।
৪. বাংলাদেশ ব্যাংক বিল (BB Bill)
বাজারের কাঠামোগত তারল্য শোষণের জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকর।
- মেয়াদ: সাধারণ মুদ্রা অপারেশনের জন্য ৭ দিন এবং কাঠামোগত অপারেশনের জন্য ১৪, ৩০, ৯০ ও ১৮০ দিন মেয়াদী বিল ইস্যু করা হয়।
- নিলাম পদ্ধতি: এই বিলগুলো নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয় এবং এর ডিসকাউন্ট রেট পলিসি রেটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়।
শরীয়াহ ভিত্তিক ব্যাংকগুলোর জন্য তারল্য সুবিধা (IBLF)
ইসলামিক ব্যাংকগুলোর জন্য সুদমুক্ত এবং শরীয়াহ সম্মত তারল্য ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে IBLF চালু করা হয়েছে। এটি মুদারাবাহ চুক্তির ভিত্তিতে পরিচালিত হয়, যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংক বিনিয়োগকারী বা ‘রাব্বুল মাল’ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকটি বিনিয়োগ ব্যবস্থাপক বা ‘মুদারিব’ হিসেবে কাজ করে।
- মেয়াদ ও মুনাফা: এটি সাধারণত ৭ দিন মেয়াদী হয়। এর মুনাফার হার সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের এক মাস মেয়াদী মুদারাবাহ টার্ম ডিপোজিট রিসিপ্ট (MTDR) এর হারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ করা হয়।
- মুনাফা সমন্বয়: বছর শেষে ব্যাংকটির প্রকৃত অর্জিত মুনাফার ভিত্তিতে এই সাময়িকভাবে নির্ধারিত মুনাফা হার চূড়ান্তভাবে সমন্বয় করা হয়।
রেপো এবং আইবিএলএফ এর মধ্যে পার্থক্য কী?
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশিকা অনুযায়ী, রেপো (Repo) এবং আইবিএলএফ (IBLF) উভয়ই বাজারে তারল্য সরবরাহের সরঞ্জাম হলেও এদের মধ্যে মৌলিক কিছু পার্থক্য রয়েছে। নিচে এদের প্রধান পার্থক্যগুলো তুলে ধরা হলো:
১. ব্যাংকিং ব্যবস্থার ধরন:
- রেপো: এটি মূলত কনভেনশনাল বা প্রথাগত ব্যাংক এবং ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর তারল্য ব্যবস্থাপনার জন্য ব্যবহৃত হয় ।
- আইবিএলএফ: এটি শরীয়াহ ভিত্তিক ব্যাংক এবং ফাইন্যান্স কোম্পানি (অথবা প্রথাগত ব্যাংকের ইসলামিক উইন্ডো) গুলোর জন্য তৈরি একটি শরীয়াহ সম্মত ব্যবস্থা ।
২. চুক্তির ভিত্তি:
- রেপো: এটি একটি বিক্রয় এবং পুনরায় কেনার (Sale and Repurchase) চুক্তি, যা অর্থনৈতিকভাবে একটি জামানতযুক্ত অর্থায়ন হিসেবে বিবেচিত হয় ।
- আইবিএলএফ: এটি মুদারাবাহ (Mudarabah) চুক্তির ভিত্তিতে পরিচালিত হয়, যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংক বিনিয়োগকারী (রাব্বুল মাল) এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বিনিয়োগ ব্যবস্থাপক (মুদারিব) হিসেবে কাজ করে ।
৩. রিটার্ন বা আয়ের প্রকৃতি:
- রেপো: এক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংককে সুদ (Interest) প্রদান করে, যা মুদ্রানীতি কমিটি (MPC) কর্তৃক নির্ধারিত পলিসি রেট অনুযায়ী হয় ।
- আইবিএলএফ: এতে সুদের পরিবর্তে মুনাফা (Profit) বণ্টন করা হয়। এই মুনাফা একটি পূর্ব-নির্ধারিত মুনাফা বণ্টন অনুপাত (PSR) এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মুদারাবাহ টার্ম ডিপোজিট রিসিপ্ট (MTDR) হারের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয় ।
৪. জামানত (Collateral):
- রেপো: এর বিপরীতে ট্রেজারি বিল, ট্রেজারি বন্ড এবং বাংলাদেশ ব্যাংক বিল জামানত হিসেবে রাখা হয়।
- আইবিএলএফ: এর বিপরীতে জামানত হিসেবে বাংলাদেশ গভর্মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট সুকুক (BGIS) রাখা হয় ।
৫. মেয়াদ (Tenor):
- রেপো: এর মেয়াদ সাধারণত ১ দিন (ওভারনাইট) এবং ৭ দিন হয়ে থাকে ।
- আইবিএলএফ: এর মেয়াদ সাধারণত ৭ দিন হয় ।
৬. জরিমানার ব্যবহার:
- রেপো: কোনো ব্যাংক খেলাপ করলে যে জরিমানা আদায় করা হয়, তা বাংলাদেশ ব্যাংকের আয় হিসেবে গণ্য হতে পারে।
- আইবিএলএফ: শরীয়াহ নীতি অনুযায়ী, খেলাপী ব্যাংকের কাছ থেকে আদায়কৃত জরিমানার অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের আয় হিসেবে যোগ হয় না; বরং তা একটি চ্যারিটি ফান্ডে (বাংলাদেশ ব্যাংক ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি ফান্ড) স্থানান্তর করা হয় ।
পরিচালন ও সেটেলমেন্ট পদ্ধতি
OMO কার্যক্রম সাধারণত ইলেকট্রনিক সিস্টেম বা ফিন্যান্সিয়াল মার্কেট ইনফ্রাস্ট্রাকচার (FMI) এর মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এর পুরো প্রক্রিয়াটি দুটি ধাপে সম্পন্ন হয়:
প্রথম লেগ সেটেলমেন্ট (First Leg Settlement): লেনদেনটি সম্পন্ন হওয়ার পর প্রাথমিক পর্যায়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কারেন্ট অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা দেয় (রেপো বা SLF এর ক্ষেত্রে)। বিনিময়ে ব্যাংকের সিকিউরিটিজগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুকূলে জামানত হিসেবে লিয়েন করা হয়। এই সেটেলমেন্ট ভ্যালু নির্ধারণের সময় সিকিউরিটিজের বাজার মূল্য থেকে একটি নির্দিষ্ট অংশ ‘হেয়ারকাট’ হিসেবে বাদ দেওয়া হয়।
দ্বিতীয় লেগ সেটেলমেন্ট (Second Leg Settlement): এটি হলো লেনদেনের মেয়াদ শেষ হওয়ার দিন। এই দিনে ব্যাংকটি সুদাসলসহ অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংককে ফেরত দেয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের জামানতকৃত সিকিউরিটিজগুলো মুক্ত করে দেয়।
জামানত ও হেয়ারকাট (Haircut) নীতি
OMO কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য ব্যাংকগুলোকে অবশ্যই যোগ্য সিকিউরিটিজ জামানত হিসেবে প্রদান করতে হয়।
- যোগ্য সিকিউরিটিজ: ট্রেজারি বিল, ট্রেজারি বন্ড এবং বাংলাদেশ ব্যাংক বিলকে যোগ্য জামানত হিসেবে ধরা হয়। ইসলামিক ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ গভর্মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট সুকুক (BGIS) গ্রহণযোগ্য।
- হেয়ারকাট: সিকিউরিটিজের বাজার ঝুঁকি মোকাবিলায় এর মূল্যের ওপর ৫% হেয়ারকাট প্রয়োগ করা হয়। অর্থাৎ, ১০০ টাকার সিকিউরিটিজের বিপরীতে ব্যাংক সর্বোচ্চ ৯৫ টাকা ঋণ পেতে পারে।
চুক্তি লঙ্ঘন বা ডিফল্ট হওয়ার পরিণাম
যদি কোনো ব্যাংক নির্দিষ্ট মেয়াদে অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হয়, তবে নির্দেশিকা অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক নিম্নলিখিত কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে:
১. বাংলাদেশ ব্যাংক তাৎক্ষণিকভাবে জামানতকৃত সিকিউরিটিজ বাজেয়াপ্ত ও বিক্রি করে নিজের পাওনা আদায় করতে পারে।
২. পাওনা আদায়ে কোনো ঘাটতি থাকলে তা ব্যাংকের কারেন্ট অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে নেওয়া হয়।
৩. খেলাপি ব্যাংককে পুনরায় কোনো সুবিধা দেওয়ার আগে সকল বকেয়া পরিশোধ করতে হয়।
৪. জরিমানার ক্ষেত্রে রেপো বা SLF হারের সমপরিমাণ অতিরিক্ত চার্জ আরোপ করা হয়। ইসলামিক ব্যাংকের ক্ষেত্রে জরিমানার টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব আয় হিসেবে গণ্য না হয়ে একটি চ্যারিটি ফান্ডে জমা দেওয়া হয়।
হিসাবরক্ষণ বা অ্যাকাউন্টিং পদ্ধতি
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, রেপো লেনদেনকে সিকিউরিটিজ কেনাবেচা হিসেবে না দেখে ‘জামানতযুক্ত ঋণ’ বা Collateralized Borrowing হিসেবে গণ্য করা হয়।
- সিকিউরিটিজগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ব্যালেন্স শিটেই থাকবে তবে সেগুলোকে ‘দায়বদ্ধ’ বা Encumbered হিসেবে দেখাতে হবে।
- মেয়াদ চলাকালীন এই সিকিউরিটিজগুলো এসএলআর (SLR) সংরক্ষণের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবে না।
- সিকিউরিটিজের বিপরীতে প্রাপ্ত কুপন বা মুনাফা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকই পাবে।
সাধারণ শর্তাবলী ও সময়সূচী
- সময়: রেপো এবং IBLF এর আবেদনের জন্য সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত সময় নির্ধারিত। ফলাফল প্রকাশ করা হয় বিকেল ৩:৩০ মিনিটে।
- সেটেলমেন্ট: সকল লেনদেন T+0 ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়, অর্থাৎ আবেদনের দিনেই টাকা পাওয়া যায়।
- ছুটির দিন: যদি মেয়াদ শেষের দিন সরকারি ছুটি থাকে, তবে পরবর্তী কার্যদিবসে লেনদেন সম্পন্ন হবে এবং ঐ অতিরিক্ত দিনের সুদ প্রদান করতে হবে।
- ম্যানুয়াল আবেদন: যদি ইলেকট্রনিক সিস্টেমে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়, তবে বিশেষ ফরমে ম্যানুয়াল আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
উপসংহার
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই বিস্তৃত OMO নির্দেশিকা দেশের ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও শৃঙখলা নিশ্চিত করার একটি বড় পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে যেমন ব্যাংকগুলো তাদের সাময়িক অর্থের সংকট মেটাতে পারে, তেমনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকও বাজারের তারল্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে মুদ্রাস্ফীতি ও সুদের হারের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সক্ষম হয়। প্রথাগত এবং শরীয়াহ ভিত্তিক উভয় পদ্ধতির জন্য সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন থাকায় দেশের সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতা আরও মজবুত হবে বলে আশা করা যায়।