একটি দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো তার পুঁজিবাজার। আর একটি শক্তিশালী ও স্থিতিশীল পুঁজিবাজার গঠনের পূর্বশর্ত হলো শিক্ষিত ও সচেতন বিনিয়োগকারী। বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তাদের সঠিক বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ২০১৬ সালে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
তারা প্রণয়ন করে “বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিনিয়োগ শিক্ষার উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ) বিধিমালা, ২০১৬”। এই বিধিমালাটি সময়ের প্রয়োজনে বিভিন্ন সময় সংশোধিত হয়েছে এবং সর্বশেষ ০৬ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে এটি হালনাগাদ করা হয়েছে ।
Table of Contents
BSEC বিনিয়োগ শিক্ষার উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ বিধিমালা, ২০১৬
আজকের এই ব্লগ পোস্টে আমরা এই বিধিমালার আদ্যপান্ত, এর কালানুক্রমিক বিবর্তন, বিনিয়োগ শিক্ষার কাঠামো, অর্থায়ন পদ্ধতি এবং একাডেমি প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো বিস্তারিত আলোচনা করব।

প্রেক্ষাপট ও আইনি ভিত্তি
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩-এর ধারা ২৪-এর উপ-ধারা (১)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে কমিশন এই বিধিমালাটি প্রণয়ন করে। এটি প্রাথমিকভাবে ২২ নভেম্বর ২০১৬ তারিখে প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হয় এবং ২৬ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশিত হয় । এই বিধিমালার মূল উদ্দেশ্য হলো বিদ্যমান ও সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীসহ সর্বস্তরের জনগণের আর্থিক বিষয়ে জ্ঞান বৃদ্ধি করা ।
এই বিধিমালার অধীনে “বিনিয়োগ শিক্ষা” কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে, যা ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সংশোধনীর মাধ্যমে আরও যুগোপযোগী করা হয়েছে।
বিনিয়োগ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের কাঠামো
বিধিমালার দ্বিতীয় অধ্যায়ে বিনিয়োগ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের রূপরেখা বর্ণনা করা হয়েছে। কমিশন বিনিয়োগকারীদের জ্ঞান বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিন ধরণের মেয়াদি কর্মসূচি গ্রহণ করার ক্ষমতা রাখে:
১. স্বল্প মেয়াদি: এক বছর বা তার কম সময়ের জন্য ।
২. মধ্য মেয়াদি: এক বছরের অধিক হতে তিন বছর পর্যন্ত ।
৩. দীর্ঘ মেয়াদি: তিন বছরের অধিক সময়ের জন্য ।
শিক্ষার মাধ্যম ও প্রক্রিয়া: বিনিয়োগ শিক্ষা শুধুমাত্র শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। বিধিমালার ৪ নং বিধিতে শিক্ষার প্রসারে বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে:
- উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা: একাডেমি এবং কমিশনের ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসি বিভাগ সমন্বিতভাবে দূর শিক্ষণ ও উপ-আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম গ্রহণ করবে। এর মধ্যে রয়েছে বিষয়ভিত্তিক পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, অনলাইন ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পাঠদান এবং পরীক্ষা গ্রহণ ।
- ইলেকট্রনিক ও সৃজনশীল মাধ্যম: বিনিয়োগ শিক্ষাকে জনপ্রিয় করতে নাটিকা, বিজ্ঞাপন, প্রামাণ্যচিত্র, কার্টুন, কুইজ, বিতর্ক এবং সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতার আয়োজন করার কথা বলা হয়েছে ।
- আনুষ্ঠানিক শিক্ষা: মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের পাঠ্যসূচিতে বিনিয়োগ শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা রয়েছে ।
- অন্যান্য মাধ্যম: রোড শো, সেমিনার এবং ওয়ার্কশপের মাধ্যমেও শিক্ষা বিস্তারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে ।
বিনিয়োগ শিক্ষা তহবিল: গঠন ও ব্যবস্থাপনা
বিধিমালার শুরুতে কমিশন দেশব্যাপী বিনিয়োগ শিক্ষা প্রসারের জন্য একটি প্রাথমিক অর্থসংস্থান বা তহবিল গঠন করে। এই তহবিল ব্যবস্থাপনার বিষয়টি তৃতীয় অধ্যায়ে (বিধি ৯ থেকে ১১) বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
তহবিল গঠন ও উৎস: “বিনিয়োগ শিক্ষা তহবিল” নামে গঠিত এই তহবিলে অর্থের উৎস হিসেবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, এক্সচেঞ্জ, ডিপোজিটরি, ক্লিয়ারিং ও সেটেলমেন্ট কোম্পানি, ইস্যুয়ার এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার অনুদান বা সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR) খাতের অর্থ জমা হওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
হিসাবরক্ষণ ও নিরীক্ষা (Audit): তহবিলের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর অডিট বা নিরীক্ষা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কমিশনের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগ প্রতি ছয় মাসে একবার হিসাব নিরীক্ষা করবে। এছাড়া, প্রতি অর্থ বছর শেষ হওয়ার ১২০ দিনের মধ্যে একটি স্বীকৃত নিরীক্ষা ফার্ম দ্বারা বার্ষিক হিসাব বিবরণী নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে এবং পরবর্তী ১৪ দিনের মধ্যে তা কমিশনে দাখিল করতে হবে ।
তহবিলের বিলুপ্তি ও রূপান্তর: এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ কালানুক্রমিক পরিবর্তনের বিষয় রয়েছে। বিধি ১১ অনুযায়ী, যখন এই বিধিমালার অধীনে “একাডেমি” প্রতিষ্ঠিত হবে, তখন কমিশন দ্বারা নির্ধারিত সময়ে এই প্রাথমিক “বিনিয়োগ শিক্ষা তহবিল” বিলুপ্ত হয়ে যাবে এবং এর সমুদয় অর্থ একাডেমির নিজস্ব তহবিলে একীভূত হবে ।
বাংলাদেশ একাডেমি ফর সিকিউরিটিজ মার্কেট (BASM) প্রতিষ্ঠা
এই বিধিমালার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল একটি বিশেষায়িত একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা। চতুর্থ অধ্যায়ে (বিধি ১২) “বাংলাদেশ একাডেমি ফর সিকিউরিটিজ মার্কেট (বিএএসএম)” প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে ।
একাডেমির কার্যাবলি: একাডেমি প্রতিষ্ঠার পর বিনিয়োগ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম (যা আগে কমিশন সরাসরি করত) একাডেমি পরিচালনা করবে। এর মধ্যে রয়েছে প্রশিক্ষণ, সার্টিফিকেট কোর্স, ডিপ্লোমা এবং পোস্ট গ্রাজুয়েট কোর্স পরিচালনা করা । কমিশন অনুমোদিত হলে একাডেমি বিনামূল্যে বা ফি গ্রহণ সাপেক্ষে এসব কোর্স পরিচালনা করতে পারে ।
পরিচালনা পর্ষদ (Board of Governors): একাডেমি পরিচালনার জন্য অনধিক ১৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি ‘বোর্ড অব গভর্নর’ থাকবে । বোর্ডের চেয়ারম্যান বা তাঁর অনুপস্থিতিতে নির্বাচিত কোনো সদস্যের সভাপতিত্বে বছরে কমপক্ষে তিনটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভার কোরাম পূর্ণ করতে এক-তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক ।
একাডেমির নির্বাহী নিয়োগ: ২০২৫ সালের গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী
বিধিমালার বিধি ১৫-তে একাডেমির নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এখানেই ০৬ নভেম্বর, ২০২৫ পর্যন্ত হালনাগাদকৃত তথ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনটি লক্ষ্য করা যায়।
মূল বিধিমালার ১৫(১) বিধিতে বলা হয়েছে, একাডেমির প্রধান নির্বাহী হবেন “মহাপরিচালক” এবং উপ-প্রধান নির্বাহী হবেন “অতিরিক্ত মহাপরিচালক” ।
২০২৫ সালের সংশোধনী (বিধি ১৫-এর উপ-বিধি ২): ৩০ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে জারিকৃত এবং ০৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে গেজেটে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন (নম্বর- ৫৩.০২.০০০০.০০০.২০১.২২.০৩৫১.১৬.৯৬.২৭২.১৫৮) মূলে বিধি ১৫-এর উপ-বিধি (২) প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী:
- কমিশন থেকে একজন নির্বাহী পরিচালক এবং একজন পরিচালক-কে প্রেষণে (Deputation) যথাক্রমে একাডেমির মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক হিসেবে পদায়ন করা হবে।
- এই পদায়নের ক্ষেত্রে “বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা, ২০২১”-এর সংশ্লিষ্ট শর্ত পালন করতে হবে ।
- ব্যতিক্রম: তবে শর্ত থাকে যে, যদি কোনো কারণে কমিশন তার নিজস্ব জনবল থেকে এই দুই পদে কর্মকর্তা পদায়ন করতে না পারে, তবে বোর্ড কমিশনের পূর্বানুমতিক্রমে এবং প্রযোজ্য শর্তসাপেক্ষে উপযুক্ত কোনো ব্যক্তিকে চুক্তভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করতে পারবে ।
এই সংশোধনীটি একাডেমির প্রশাসনিক কাঠামোকে কমিশনের সাথে আরও নিবিড়ভাবে সংযুক্ত করেছে এবং প্রয়োজনে বাইরের বিশেষজ্ঞ নিয়োগের পথও খোলা রেখেছে।
একাডেমি তহবিল ও বাজেট ব্যবস্থাপনা
একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তার ব্যয় নির্বাহের জন্য “বাংলাদেশ একাডেমি ফর সিকিউরিটিজ মার্কেট তহবিল” গঠন করা হবে । কমিশনের প্রাথমিক তহবিল বিলুপ্ত হয়ে এই তহবিলে যুক্ত হবে। এছাড়াও পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা বৈদেশিক সংস্থার অনুদান এবং একাডেমির নিজস্ব আয় (কোর্স ফি ইত্যাদি) এখানে জমা হবে।

আর্থিক বছর: একাডেমির অর্থ বছর গণনা করা হবে প্রতি পঞ্জিকা বছরের ১ জুলাই থেকে পরবর্তী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত ।
অডিট রিপোর্ট: তহবিলের মতো একাডেমির বার্ষিক হিসাবও অর্থ বছর শেষের ১২০ দিনের মধ্যে অডিট করাতে হবে এবং পরবর্তী ১৪ দিনের মধ্যে কমিশনে দাখিল করতে হবে। তবে যুক্তিসঙ্গত কারণে ব্যর্থ হলে কমিশন সময়সীমা বৃদ্ধি করতে পারে ।
সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের দায়িত্ব ও কর্তব্য
পঞ্চম অধ্যায়ে (বিবিধ) পুঁজিবাজারের অন্যান্য অংশীজনদের দায়িত্ব সম্পর্কে বলা হয়েছে। শুধুমাত্র কমিশন বা একাডেমি নয়, বিনিয়োগ শিক্ষার দায়িত্ব এক্সচেঞ্জ, ডিপোজিটরি, এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ওপরও বর্তায়।
- পৃথক বিভাগ গঠন: প্রত্যেক এক্সচেঞ্জ, ক্লিয়ারিং কোম্পানি, এবং বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানকে বিনিয়োগ শিক্ষার জন্য তাদের প্রতিষ্ঠানে একটি পৃথক বিভাগ বা ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করতে হবে ।
- নিজস্ব অর্থায়ন: সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিজস্ব উদ্যোগে পরিচালিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ব্যয় নিজেরাই বহন করবে ।
- তহবিলে অর্থ প্রদান: নিজস্ব ব্যয়ের পাশাপাশি, কমিশনের গৃহীত কর্মসূচির ব্যয় নির্বাহের জন্য এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিধিমালার অধীনে গঠিত কেন্দ্রীয় তহবিলে (কমিশনের তহবিল বা পরবর্তীতে একাডেমি তহবিল) নির্ধারিত অর্থ প্রদান করতে হবে ।
- কর্মচারী ও গ্রাহক প্রশিক্ষণ: প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এবং গ্রাহকদের নিয়মিতভাবে আইন-কানুন, আচরণবিধি এবং বিনিয়োগ অধিকার সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিতে বাধ্য থাকবে ।
- অভিযোগ নিষ্পত্তি: গ্রাহকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করাও এই শিক্ষার অংশ হিসেবে গণ্য হবে ।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও চুক্তি
বিনিয়োগ শিক্ষার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্যে একাডেমিকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। বিধি ২২ অনুযায়ী, কমিশনের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে একাডেমি দেশি-বিদেশি যেকোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার সাথে চুক্তি (Agreement) বা সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করতে পারবে । এটি প্রযুক্তিগত জ্ঞান আহরণ এবং বৈশ্বিক মানদণ্ড বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
বিনিয়োগ শিক্ষার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্যে একাডেমিকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কমিশনের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে একাডেমি দেশি-বিদেশি যেকোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার সাথে চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করতে পারবে। এটি প্রযুক্তিগত জ্ঞান আহরণ এবং বৈশ্বিক মানদণ্ড বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
উপসংহার
“বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিনিয়োগ শিক্ষার উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ) বিধিমালা, ২০১৬” বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। ২০১৬ সালে এটি যখন জারি করা হয়, তখন এর মূল লক্ষ্য ছিল একটি বিচ্ছিন্ন শিক্ষা কার্যক্রমের পরিবর্তে একটি সমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখা তৈরি করা। পরবর্তীতে একাডেমি (BASM) প্রতিষ্ঠা এবং ২০২৫ সালের নভেম্বরের সংশোধনীর মাধ্যমে এর প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।
বিশেষ করে, ২০২৫ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে একাডেমির শীর্ষ পদে কমিশনের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের প্রেষণে নিয়োগের বিধান (অথবা প্রয়োজনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ) একাডেমির কার্যক্রমে আরও গতিশীলতা ও পেশাদারিত্ব আনবে বলে আশা করা যায়। বিনিয়োগকারীরা যত বেশি শিক্ষিত হবেন, বাজার তত বেশি স্থিতিশীল হবে—এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করেই এই বিধিমালাটি সময়ের সাথে সাথে বিবর্তিত হচ্ছে।
(দ্রষ্টব্য: এই ব্লগ পোস্টটি “Notification_09.02.2026.pdf” সোর্সে প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুতকৃত। উল্লেখিত তারিখ ও বিধিমালা সংশ্লিষ্ট নথির তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কালানুক্রমিকভাবে সাজানো হয়েছে।)